মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে এবং বর্তমানে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে দরকষাকষিতে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম; সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ফেরত দেবে বলে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এপ্রিলের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং নানা টানাপোড়েনের মধ্যেও চলতি সপ্তাহে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে যদিও এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য শিগগিরই মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে যা ইসলামাবাদ এ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পাকিস্তান মিসর ও তুরস্ক এর সমর্থনে এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণ করা যাতে মাটির নিচে সংরক্ষিত প্রায় ২০০০ কেজি ইউরেনিয়াম বিশেষ করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম ব্যবহার করতে না পারে, অন্যদিকে ইরানের তীব্র অর্থনৈতিক প্রয়োজন থাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে ইউরেনিয়ামের পরিমাণ ও জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দরকষাকষি চলছে এবং ইরান ওই অর্থ কোন খাতে ব্যয় করতে পারবে তা নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, প্রাথমিকভাবে খাদ্য ও ওষুধ কেনার জন্য ৬০০ কোটি ডলার ছাড় দিতে রাজি ছিল যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু ইরান ২৭০০ কোটি ডলার দাবি করায় বর্তমানে প্রায় ২০০০ কোটি ডলার নিয়ে আলোচনা চলছে, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চাইছিল ইরান তাদের সব পারমাণবিক উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিক তবে ইরান এতে রাজি না হয়ে নিজ দেশে থেকেই সেগুলোর মান কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, এখন একটি আপস প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে যেখানে উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ তৃতীয় দেশে পাঠানো হবে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইরানে থেকেই নিম্নমানের করা হবে, খসড়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দেয় এবং মধ্যস্থতাকারীরা এই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছে, এ চুক্তির আওতায় ইরান চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির জন্য পারমাণবিক গবেষণা চালাতে পারবে তবে সব স্থাপনা মাটির ওপরে রাখতে হবে এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো অকেজো করে রাখতে হবে, হোয়াইট হাউস এই আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করলেও বিস্তারিত জানাতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন রাজনীতিবিদ লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন ট্রাম্প সরাসরি ইরানিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে দরকষাকষিও হয়েছে, ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে প্রস্তুত রয়েছে, তিনি সতর্ক করে বলেন চুক্তি না হলে আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে, পাশাপাশি আগামী শুক্রবার তুরস্ক এ একটি কূটনৈতিক সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তান মিসর ও তুরস্ক এর মধ্যস্থতাকারীরা সৌদি আরব এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালাবেন।
