শুক্রবার এক বক্তব্যে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বলেন, “শেষ পর্যন্ত ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না,” এবং এই মিশনকে তিনি বিশ্বের জন্য একটি “উপহার” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ‘চূড়ান্ত সামরিক ফলাফল’ অর্জিত হয়েছে, যেটিকে তিনি ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সঙ্গে তুলনা করেন। হেগসেথ আরও জানান, এই অভিযান এখন নতুন পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানের সামনে একটি “ভালো ও বুদ্ধিদীপ্ত চুক্তিতে” আসার সুযোগ রয়েছে। ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আয়রনক্ল্যাড” এই অবরোধ ক্রমেই আরও কঠোর হচ্ছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী কোনো দ্বিধা বা ক্ষমা ছাড়াই তা কার্যকর করছে। তার ভাষায়, মার্কিন মানদণ্ড পূরণ করে এমন প্রতিটি জাহাজ—তা ইরানি হোক বা ইরানি বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা হোক—এই অবরোধের আওতায় পড়বে, এবং ইতোমধ্যে ৩৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদিও অ-ইরানি কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চলতি সপ্তাহে ইরানের দুটি ‘ডার্ক ফ্লিট’ জব্দ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও জাহাজ আটক করা হবে। হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন অনুমতি ছাড়া কেউ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। তিনি ইরানের সাম্প্রতিক কিছু জাহাজ জব্দ ও গুলিবর্ষণের ঘটনাকে “এলোমেলো কার্যক্রম” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, স্পিডবোট বা সামান্য অস্ত্র নিয়ে এমন কর্মকাণ্ড কোনো প্রভাব ফেলবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সময়ের কোনো চাপ নেই, তবে ইরানের কাছে এখনো পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের জন্য একটি বাস্তব ও যাচাইযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন নৌবাহিনীকে বলা হয়েছে, যদি কোনো দ্রুতগতির বোট মাইন স্থাপন বা প্রণালিতে বাধা সৃষ্টি করে, তবে সেটিকে ধ্বংস করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো দ্বিধা থাকবে না। শেষে হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর যেকোনো চেষ্টা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
