জাকের পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পীর ছাহেব হযরত মাওলানা শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (রা.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে বিশ্ব ইসলামি মহা সল্মালেন আগমি কাল বহ্তিবার মাগরিব নামাজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় ৫৫ বছর ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল থেকে ইসলামের দাওয়াত প্রচার করে ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাতে তিনি লাখো জাকেরান, আশেকান ও জাকের পার্টির নেতা-কর্মীদের শোক সাগরে ভাসিয়ে ওফাত লাভ করেন। তাঁর অমর অবদান ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্বে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল আজও উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সারা দেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জাকের পার্টির অনুসারী, জাকেরান, আশেকান ও মুসল্লিরা ইতোমধ্যেই বাইশরশিস্হ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে সমবেত হতে শুরু করেছেন এবং ফাতেহা শরিফ উপলক্ষে থাকা, খাওয়া, ওজু-গোসলসহ সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের বিশাল জামায়াতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে, যেখানে ফরজ ও সুন্নত নামাজ আদায়ের পর ২ রাকাত করে ৩ দফায় মোট ৬ রাকাত নফল নামাজ, দোয়া ও মোনাজাত এবং ফাতেহা শরিফ পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে। ফাতেহা শরিফ উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও জিকির মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম ও দরবার শরিফের খাদেমগণ শরীয়ত, তরিকত, মারেফত, হকিকত ও পীর ছাহেবের জীবনাদর্শ এবং জাকের পার্টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। রাতভর আধ্যাত্মিক ইবাদতের অংশ হিসেবে গভীর রাত পর্যন্ত কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও জিকির চলবে, রাত ১টা ৩৫ মিনিটের আগে ওফাতের সময় স্মরণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে এবং রাত ৩টা থেকে ফজর পর্যন্ত রহমতের সময়ে ইবাদত অব্যাহত থাকবে। ফজর পরবর্তী সময়ে তরিকায়ে নকশবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া অনুসারে ১০০ বার দরুদ শরিফ, ৫০০ বার “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” এবং পুনরায় ১০০ বার দরুদ শরিফ পাঠ করা হবে। শুক্রবার সকাল থেকে কোরআন তেলাওয়াত ও মিলাদ শরিফ শেষে পীর ছাহেবের কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে এবং জুমার নামাজ শেষে পুনরায় জিয়ারত করা হবে। এ ফাতেহা শরিফে মোস্তফা আমীর ফয়সল (চেয়ারম্যান, জাকের পার্টি) ও ড. সায়েম আমীর ফয়সল (সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান) সহ দেশ-বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য অনুসারী অংশগ্রহণ করবেন। কুমিল্লা সহ দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি আগমন করবেন এবং পুকুরিয়া মোড়, তালমা মোড় ও মালিগ্রাম এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যেখানে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত থাকবেন।
