দোহা—ইরানি সামরিক পাইলটদের আটক করে রাখার অভিযোগ категорically প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দোহার দাবি, ভূপাতিত ইরানি যুদ্ধবিমানের ক্রুদের আটক নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই তাদের সন্ধানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে; কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, কাতারের আকাশসীমায় প্রবেশের পর সংশ্লিষ্ট ইরানি পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি, এরপর নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় দোহা এবং একই সঙ্গে সামরিক ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়; কাতারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অভিযানে অন্তত একজন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে ইরানকে কাতারে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যদিও এখনো সেই আমন্ত্রণে ইরানের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দোহা; কাতারের এই বক্তব্য ইরানি সামরিক কমান্ডার সৈয়দ মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহের আগের অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তিনি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে জানিয়েছিলেন, কাতারের আকাশসীমায় ভূপাতিত দুটি সু-২৪ যুদ্ধবিমানের তিন পাইলটকে দোহায় কয়েক মাস ধরে আটক রাখা হয়েছে; এদিকে ইরান জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পাইলট মাজিদ কাজেমির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে এবং ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের অন্য নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের ভাগ্য জানতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে; দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী দাবি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান, কাতার ও বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে; একই সময়ে কাতারের রাস লাফান গ্যাস অবকাঠামোতে হামলার ঘটনাকে ঘিরে তেহরান ও দোহার মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে, যদিও সরাসরি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এখনো পুনরায় শুরু হয়নি; ফলে ইরানি পাইলটদের ভাগ্য নিয়ে তেহরান ও দোহার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য চলমান আঞ্চলিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের প্রকৃত পরিণতি ও ভূপাতিত যুদ্ধবিমান ঘিরে কী ঘটেছিল তা স্পষ্ট করতে স্বচ্ছ তদন্ত, সরাসরি তথ্য বিনিময় এবং উভয় পক্ষের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
