মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন টানা দুই শতাধিক দিন কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে অবস্থান করায় জাহাজের নাবিকদের মানসিক সুস্থতা, কর্মপরিবেশ ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকালীন দায়িত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে; নাবিকদের পরিবারের অভিযোগ ও কয়েকজন আইনপ্রণেতার প্রশ্নের মধ্যেই মার্কিন কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জাহাজটি পরিদর্শন করে এর নাবিকদের দৃঢ়তা, নেতৃত্ব ও দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর ভাষায়, জাহাজটির পরিস্থিতি ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দাবি অনুযায়ী, আব্রাহাম লিংকনের টানা দুই শতাধিক দিনের সমুদ্রযাত্রা আধুনিক সময়ে এমন ধরনের দীর্ঘতম অবস্থানের একটি নজির, আর এই নজিরের আড়ালেই উঠে এসেছে দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা নাবিকদের মানসিক চাপ, বিশ্রামের সীমাবদ্ধতা এবং যুদ্ধকালীন দায়িত্বের ক্রমবর্ধমান বোঝা নিয়ে প্রশ্ন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও নৌসেনা সদস্য নিয়ে রণতরীটি গত নভেম্বরে সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে এবং পরে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মোতায়েন করা হয়। অ্যাডমিরাল কুপার অবশ্য দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর সক্রিয় এগারোটি বিমানবাহী রণতরীর মধ্যে আব্রাহাম লিংকনেই মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার সংখ্যা সবচেয়ে কম এবং জাহাজের নেতৃত্ব নাবিকদের মানসিক সুস্থতা ও কর্মদক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে; একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত উদ্বেগজনক প্রতিবেদনগুলোকে বাস্তবতার সম্পূর্ণ ভুল উপস্থাপন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন, আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগকে খারিজ করে বলেছেন, রণতরীটির দায়িত্ব পালনের সময় বরং যথেষ্ট দীর্ঘ হয়নি। কিন্তু সামরিক নেতৃত্বের এই আশ্বাসের বিপরীতে নাবিকদের পরিবারের উদ্বেগ এবং আইনপ্রণেতাদের জবাবদিহির দাবি একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে—যুদ্ধের ময়দানে দীর্ঘদিন ধরে থাকা একটি বিশাল রণতরীর সক্ষমতা কি শুধু অস্ত্র, প্রযুক্তি ও সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে, নাকি তার প্রকৃত শক্তি নির্ধারিত হয় সেই হাজারো নাবিকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার মধ্যেও; ফলে আব্রাহাম লিংকনের নজিরবিহীন দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা এখন কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি, নাবিকদের নিরাপত্তা, নেতৃত্বের জবাবদিহি এবং দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
