যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত মেয়াদে একাধিক ঐতিহাসিক ও বহুল আলোচিত রায় দেওয়ার পর আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন বিচারিক অধিবেশনকে ঘিরে আবারও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন অধিবেশনে আদালত অস্ত্র বহনের সাংবিধানিক অধিকার, ভোটাধিকার সীমাবদ্ধতা, এলজিবিটিকিউ অধিকার, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত অভিবাসী আটক নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ করপোরেশনগুলোকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলার শুনানি করবে, যেগুলোর রায় দেশটির আইন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ছয়জন রক্ষণশীল ও তিনজন উদারপন্থী বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বর্তমান সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যেই সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর আওতায় অস্ত্র বহনের অধিকারের পরিধি সম্প্রসারণ করে একাধিক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে এবং নতুন অধিবেশনেও এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোট গ্রহণে আরোপিত বিধিনিষেধ, এলজিবিটিকিউ নাগরিকদের অধিকার এবং নির্দিষ্ট দণ্ডপ্রাপ্ত অভিবাসীদের আটক রাখার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সাংবিধানিক বৈধতাও আদালতের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠবে। করপোরেট অঙ্গনের বহুল আলোচিত মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির দায় নিয়ে কলোরাডোর বোল্ডার শহর কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় এক্সনমোবিল ও সানকর এনার্জির আপিল, ভিডিও গেম নির্মাতা এপিক গেমস ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের দীর্ঘদিনের অ্যান্টিট্রাস্ট বিরোধ এবং পেপসিকোকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেডমার্ক মামলা। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মামলার রায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাত, জ্বালানি শিল্প, পরিবেশনীতি, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা এবং মেধাস্বত্ব আইনের ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নিম্ন আদালতে বিচারাধীন ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি মামলা আগামী অধিবেশনেই সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছাতে পারে, ফলে নির্বাহী ক্ষমতা, সাংবিধানিক ব্যাখ্যা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে তীব্র আইনি লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হবে।
