ইয়েমেনে কয়েক বছরের আপেক্ষিক শান্তির পর আবারও ভয়াবহভাবে বাড়ছে সংঘাতের উত্তেজনা। স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাতভর দেশটির কৌশলগত শহর মারিব এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরনগরী আল-মাখা লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীরা একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যাতে অন্তত চারজন নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। আল-মাখার উপকণ্ঠে একটি হামলার পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও আঘাত হানা হয়েছে, আর কয়েক দিনের ধারাবাহিক হামলার কারণে বন্দরটির কার্যক্রম ইতোমধ্যেই স্থগিত ছিল বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে মারিবের সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের দাবি, শনিবার সন্ধ্যায় আবাসিক এলাকায় ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়, এতে অন্তত চারজন আহত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাল্টা অভিযানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ও রোববার বিভিন্ন প্রদেশে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে তারা ১৮১টি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যাতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বহু সদস্য হতাহত হয়েছে; তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্ভব হয়নি। হুথিরাও তাদের চার সদস্য নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক যুগের এই সংঘাতে ২০২২ সালের এপ্রিলের পর তুলনামূলকভাবে যে যুদ্ধবিরতিসদৃশ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলা সেই স্থিতাবস্থাকে গভীরভাবে নড়বড়ে করে দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মারিব ও হাদরামাউতের সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের হামলায় অন্তত ৩০ সরকারি সেনা নিহত হওয়ার পর দেশের একাধিক প্রদেশে আবারও তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। আল-জাওফ, আল-দালেয়া ও তাইজসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় জাতিসংঘও সতর্ক করেছে যে ২০২২ সালের সমঝোতার পর ইয়েমেন বর্তমানে আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ফিরে যাওয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বন্দর, বাণিজ্যপথ, আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নতুন করে হামলার মুখে পড়তে পারে, যা ইতোমধ্যে ভয়াবহ মানবিক সংকটে থাকা ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে।
