ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সাত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিকে আধুনিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরানের পাশাপাশি ইরাকের বিভিন্ন শহরেও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজন ও শোক কর্মসূচি পালিত হবে। প্রথম দিনের মূল অনুষ্ঠানেই অধিকাংশ বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চ মাসে নির্ধারিত দাফন অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নতুন সূচি অনুযায়ী শনিবার ও রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হবে। এরপর শোকযাত্রা কোম, নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত হবে এবং শেষপর্যন্ত মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে আগামী শুক্রবার মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন সম্পন্ন করা হবে। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেভদেত ইলমাজ, ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা, বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও মেহবুবা মুফতি, চীনের শীর্ষ আইনপ্রণেতা হে ওয়েই, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদার এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও উপস্থিত রয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ আয়োজন আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে পরিণত হতে পারে এবং ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার জনসমাগমের রেকর্ডও অতিক্রম করতে পারে। নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে
