ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—এমন দাবি ঘিরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে। গত বুধবার (১৩ মে) নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি আবুধাবি সফর করেছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সঙ্গে সঙ্গেই এ দাবি অস্বীকার করে। কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আবাঘচি দাবি করেন, নেতানিয়াহুর এই গোপন সফরের ব্যাপারে তেহরান আগে থেকেই অবগত ছিল। তিনি আমিরাতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এমন গোপন আঁতাত “ক্ষমার অযোগ্য”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি লেখেন, “নেতানিয়াহু নিজেই প্রকাশ্যে বলেছেন যে তিনি আমিরাতে গিয়েছিলেন। অথচ আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অনেক আগেই এ তথ্য আমাদের নেতাদের জানিয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের মহান জনগণের বিরুদ্ধে শত্রুতা করা এক ধরনের বোকামি। আর ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন সমঝোতা কখনোই ক্ষমা করা হবে না।” ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এ ধরনের গোপন সহযোগিতা পুরো অঞ্চলে নতুন বিভাজন তৈরি করবে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। এদিকে আমিরাত সরকার পুরো বিষয়টিকে ভিত্তিহীন দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কথিত ওই সফরের কোনো বাস্তবতা নেই এবং ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কোনো গোপন বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল নয়। আমিরাত আরও জানায়, তাদের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক সম্পূর্ণ প্রকাশ্য এবং তা বহুল আলোচিত “আব্রাহাম চুক্তি”-র আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর টানা প্রায় ৪০ দিন ধরে ভয়াবহ সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে অঞ্চলটি। যুদ্ধ চলাকালে ইরান একাধিকবার আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও আমিরাত দাবি করেছে, তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই কাজ করছে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, “ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক গোপন নয়; বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কূটনৈতিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। এসব সম্পর্ক কোনো অস্পষ্ট বা গোপন সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে নয়।” উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরে একই উদ্যোগে বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। তবে চলমান যুদ্ধ এবং ইরানের ক্রমবর্ধমান হুঁশিয়ারির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
