তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক প্লাবনের পর নিখোঁজ শত শত মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে চীন। রোববার চীনা কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকারীরা আরও ১২টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ রয়েছেন, যারা তিব্বতের পবিত্র হিন্দু তীর্থস্থান মানস সরোবর ও কৈলাস পর্বত ভ্রমণে গিয়েছিলেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, দুর্যোগের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে চীন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের স্বজনদের কাছ থেকে তথ্যের দাবিও জোরালো হয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি ও উদ্ধার তৎপরতার সর্বশেষ তথ্য দ্রুত প্রকাশ করা হবে। এদিকে রোববার প্রথমবারের মতো রয়টার্সসহ আটটি বিদেশি গণমাধ্যমকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে চীন। প্রতিবেশী নেপালেও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জাতীয় শোকের শেষ দিনেও নতুন কোনো সরকারি কর্মসূচি রাখা হয়নি। নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। নুয়াকোট জেলার কারাগারে বন্যার পানি ঢোকার আগে নিরাপত্তাকর্মীরা ৯২৩ বন্দিকে উঁচু ভবনে সরিয়ে নিয়ে তাদের জীবন রক্ষা করেন; পালিয়ে যাওয়া আরও ৫০ বন্দিকে পরে আটক করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে চীন ও নেপালজুড়ে উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও নিখোঁজদের সন্ধান, জীবিতদের উদ্ধারে এবং দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
