ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত লাইটারেজ জাহাজের ভাড়া ১০ শতাংশ বাড়ানোর সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে আগামী রোববার এ সংক্রান্ত একটি সারকুলার জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) শিপিং কমোডর শফিউল বারী। তিনি টিবিএসকে জানান, গতকাল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব আসে। সবকিছু বিবেচনা করে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাবকে যুক্তিসংগত মনে হলে সবাই তাতে সম্মতি দেন। তিনি আরও বলেন, সাধারণত জাহাজ মালিক সমিতিগুলো আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া নির্ধারণ করে, তবে এবার তারা আমাদের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দিলে সবাইকে নিয়ে বসে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফ্যাক্টরি মালিক সমিতি শুরুতে পাঁচ শতাংশের বেশি ভাড়া বাড়াতে রাজি না হলেও পরে তারা সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ বলেন, আমরা চাইলে নিজেরাই আলোচনা করে ভাড়া বাড়াতে পারতাম, তবে এবার আমরা চেয়েছি পুরো প্রক্রিয়াটি একটি নিয়মের মধ্যে আনতে, তাই ডিজি শিপিংকে সভা আয়োজনের অনুরোধ করা হয়। তিনি জানান, আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটকে বেইজ রেট ধরে প্রতি টন পণ্য পরিবহনের ভাড়া ছিল ৫৫০ টাকা এবং তারা ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, অন্যদিকে বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলেছিল। শেষ পর্যন্ত ১০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর ফলে প্রতি টনের বেইজ ভাড়া দাঁড়াবে ৬০৫ টাকা। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে আমদানি পণ্য সারাদেশে পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়কপথের তুলনায় নৌপথে খরচ অর্ধেকেরও কম হয়। আড়াই হাজারের বেশি লাইটারেজ জাহাজ এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং সময় কিছুটা বেশি লাগলেও অধিকাংশ পণ্য নৌপথেই পরিবহন করা হয়। তবে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এই অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ভাড়া শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই চাপ পড়বে, ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
