বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, আর এই ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাবনার রূপপুরে অবস্থিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র; মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি সংযোজন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছে, যেখানে পরমাণু চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানোর মাধ্যমে দীর্ঘ নির্মাণপ্রক্রিয়ার পর বাস্তব উৎপাদনের পথ উন্মুক্ত হচ্ছে; এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিনিধিরা, এমনকি সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি ভার্চুয়াল বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন; সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী জ্বালানি সংযোজনসহ বিভিন্ন পরীক্ষামূলক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এরপর ধাপে ধাপে তা ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়ে বছরের শেষ দিকে বা ২০২৭ সালের শুরুতে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতায় পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে প্রথম ইউনিট; প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যার মধ্যে প্রায় ২২০০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে এবং এর মাধ্যমে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব হবে; নীতিনির্ধারকদের আশা প্রথম ইউনিট চালুর পর দ্রুত দ্বিতীয় ইউনিটও উৎপাদনে আসবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যেই এই বৃহৎ প্রকল্পটি পূর্ণ সক্ষমতায় দেশের জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে যা শিল্পায়ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
