আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালালে তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া আগের পর্যায়ের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংগঠনটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, নতুন করে হামলা হলে ইরান যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর, ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের হাতে এমন কিছু নতুন সক্ষমতার অস্ত্র রয়েছে, যেগুলো এখনো সংঘাতের আগের পর্যায়ে ব্যবহার করা হয়নি। সোমবার ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ইরানের রাষ্ট্রীয় ও সরকারঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে।
মোহেব্বির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণের কৌশলে ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ আসবে। তিনি বিশেষভাবে যুদ্ধের ভূগোল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান নতুন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম যুদ্ধক্ষেত্রে আনবে এবং এসব অস্ত্রের সক্ষমতা আগের ব্যবহৃত অস্ত্রের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। তাঁর ভাষায়, নতুন অস্ত্র ব্যবহারের পর বিশ্ব বিস্মিত হবে। তবে ইরানি কর্মকর্তা নতুন অস্ত্রগুলোর ধরন, সংখ্যা, পাল্লা বা নির্দিষ্ট সামরিক সক্ষমতার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরানের লক্ষ্যবস্তুও আগের মতো থাকবে না। তাঁর দাবি, ইরান এমন কিছু নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেগুলো এখনো হামলার আওতায় আসেনি। তবে তিনি এসব লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান বা প্রকৃতি প্রকাশ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য থেকে সম্ভাব্য লক্ষ্য কোথায় হতে পারে বা কোন ধরনের স্থাপনা এর আওতায় পড়তে পারে, তা স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
ইরানের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত ঘিরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বলেছে, সংঘাত আবার তীব্র হলে দেশটি আগের তুলনায় বিস্তৃত পরিসরে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। সেপ্টেম্বরের শুরুতেও মোহেব্বি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং ওই জলপথকে কেন্দ্র করে তেহরানের অবস্থান নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছিলেন।
যুদ্ধের ‘ভূগোল’ পরিবর্তনের বার্তা
মোহেব্বির বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর পরিবর্তনের হুমকি। তিনি বলেন, নতুন কোনো আগ্রাসন হলে ইরান সংঘাতের ‘ভূগোল’ পরিবর্তন করবে। এর অর্থ কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। তবে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তেহরান ভবিষ্যৎ সংঘাতে আগের নির্দিষ্ট যুদ্ধক্ষেত্র বা লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে নিজেদের সামরিক প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলছে না।
এ ধরনের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘাতের সঙ্গে এই অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, সমুদ্রপথ, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থ জড়িত। ফলে সংঘাতের পরিধি বাড়লে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
তবে ‘যুদ্ধের ভূগোল পরিবর্তন’ বলতে ঠিক কোন দেশ, অঞ্চল বা সামরিক স্থাপনাকে বোঝানো হচ্ছে, ইরানের পক্ষ থেকে তা স্পষ্ট করা হয়নি। তাই এই বক্তব্যকে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার নির্দিষ্ট ঘোষণা হিসেবে উপস্থাপন করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
নতুন অস্ত্র ব্যবহারের দাবি
মোহেব্বি বলেছেন, ইরান যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ব্যবহৃত অস্ত্রের পাশাপাশি এমন কিছু অস্ত্র তৈরি করেছে যেগুলোর সক্ষমতা উন্নত করা হয়েছে এবং যেগুলো প্রয়োজনে পরবর্তী পর্যায়ে ব্যবহার করা হতে পারে। তাঁর দাবি, এসব অস্ত্রের কিছু ‘কৌশলগত অস্ত্র’ হিসেবে বিবেচিত এবং প্রয়োজন হলে সেগুলো ব্যবহার করা হবে।
তবে ইরানের এই দাবির স্বাধীন যাচাই করা কঠিন। কোন অস্ত্রকে তিনি ‘নতুন’ বা ‘কৌশলগত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে এসব অস্ত্র বাস্তবে কী ধরনের সামরিক সক্ষমতা তৈরি করবে, তাও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে নেই।
সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে কোনো দেশের সরকারি বা সামরিক কর্মকর্তার অস্ত্রসংক্রান্ত দাবি এবং মাঠপর্যায়ে প্রমাণিত সক্ষমতা এক বিষয় নয়। তাই ইরানের বক্তব্যকে তেহরানের ঘোষিত অবস্থান হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু তা থেকে অস্ত্রের প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান
ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক বক্তব্যের আরেকটি কেন্দ্রীয় বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে যাওয়ার এই সরু জলপথ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মোহেব্বি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারেনি। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সামরিক ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঞ্চলিক বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত করেছে।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এসব মন্তব্য ইরানি সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য। এগুলোকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্যের সঙ্গে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। ইরানের বক্তব্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামরিক মূল্যায়ন এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তথ্যও পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের অবস্থান অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জলপথটির ওপর ইরানের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা রয়েছে। একই সময় ইরানি কর্মকর্তারা হরমুজের আশপাশের জলসীমায় জাহাজ চলাচল নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন।
এর আগে সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজের বাইরে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের কিছু অংশ পর্যন্ত একটি নতুন ‘নিষেধাজ্ঞা’ বা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট সীমা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে পরবর্তী তথ্য প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তেহরানের দাবি
মোহেব্বি তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ওয়াশিংটনের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ইরানের হামলার কারণে এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর ইরাকে থাকা মার্কিন গোয়েন্দা স্থাপনাগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে রয়েছে।
তবে কোনো সামরিক ঘাঁটি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা হারিয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করতে স্বাধীন স্যাটেলাইট ছবি, সামরিক সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি তথ্য প্রয়োজন। ইরানি সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য একা এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।
দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেছেন, ইরান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং সংঘাতের আগের পর্যায়ের তুলনায় এখন আরও প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের দৃষ্টিতে বর্তমান যুদ্ধ শেষ হয়নি; বরং বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তেহরান সামরিক সংঘাতকে স্বল্পমেয়াদি ঘটনা হিসেবে দেখছে না। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সম্ভাব্য নতুন হামলা এবং দীর্ঘমেয়াদি পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখার কথা বলছে।
তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে, ভবিষ্যতে সংঘাত আবার তীব্র হবে কি না এবং সামরিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এসব বিষয় নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকার ওপর।
কূটনীতির সম্ভাবনা ও সামরিক উত্তেজনা
সামরিক হুমকির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নে কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। রয়টার্সের আগস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে জলপথটি অনেকাংশে বন্ধ রয়েছে এবং সমুদ্রপথ পুনরায় চালুর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা জটিল হয়ে আছে।
এ ধরনের আলোচনা দেখায় যে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে সামরিক হুমকি ও পাল্টা হুমকি অব্যাহত থাকলে আলোচনার পরিবেশ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইরান সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের প্রভাবকে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই জলপথের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে হরমুজের পরিস্থিতি শুধু সামরিক প্রশ্ন নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব
ইরান যদি সত্যিই সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর বাড়ায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা সামরিক স্থাপনা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমানে ইরানের বক্তব্যে নির্দিষ্ট নতুন লক্ষ্যবস্তুর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ইরান এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতিকে তার প্রতিরোধ কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির বিষয়টি আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই জলপথে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হলে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্যের পরিবহন ব্যাহত হতে পারে। এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশ নয়, এশিয়া ও ইউরোপের আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপরও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
ইরানের বক্তব্যের রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা
মোহেব্বির সর্বশেষ বক্তব্যকে তিনটি বার্তা হিসেবে দেখা যায়। প্রথমত, ইরান নতুন মার্কিন হামলা হলে আগের ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাবে না বলে সতর্ক করছে। দ্বিতীয়ত, তেহরান যুদ্ধের পরিধি পরিবর্তনের সক্ষমতা থাকার দাবি করছে। তৃতীয়ত, ইরান এমন কিছু অস্ত্র ও লক্ষ্যবস্তুর কথা বলছে, যেগুলো সংঘাতের আগের পর্যায়ে ব্যবহার করা হয়নি।
তবে এসব বক্তব্যের বাস্তব সামরিক পরিণতি নির্ভর করবে ইরানের প্রকৃত সক্ষমতা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর। কোনো পক্ষের ঘোষণাকেই এককভাবে ভবিষ্যৎ সামরিক পরিস্থিতির নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস হিসেবে দেখা যায় না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংঘাত নতুন করে শুরু হলে তা কতটা বিস্তৃত হয় এবং আঞ্চলিক দেশগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলও তখন পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠবে।
সামনে কী হতে পারে
ইরানের সর্বশেষ সতর্কবার্তা থেকে আপাতত একটি বিষয় পরিষ্কার: তেহরান নতুন করে হামলা হলে আগের তুলনায় ভিন্ন ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতির কথা প্রকাশ্যে জানাচ্ছে। তবে কখন, কোথায় এবং কীভাবে সেই প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রও ভবিষ্যতে কী ধরনের সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেবে, সেটিও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। ফলে এখনই সংঘাতের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত।
হরমুজ প্রণালি এই সংকটের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকছে। সামরিক সংঘাত, জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়গুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। তাই ইরানের নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি শুধু সামরিক বার্তা হিসেবে নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইরানের আইআরজিসি মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, নতুন হামলা হলে যুদ্ধের ভূগোল, অস্ত্র এবং লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তিত হবে। কিন্তু এসব পরিবর্তনের প্রকৃত পরিসর এখনো অজানা। ফলে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ এবং তার বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য মাঠপর্যায়ের তথ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণের অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্র: এ বি সি নিউজ, রয়টার্স
