জেরুজালেম: জেরুজালেমে একটি স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস নির্মাণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষিণ জেরুজালেমের অ্যালেনবি কম্পাউন্ড এলাকায় আধুনিক ও স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইলভিত্তিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, ওয়াশিংটন জেরুজালেমকে ইহুদি জনগণের ঐতিহাসিক ও স্থায়ী রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে এবং নতুন দূতাবাস ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা উড়বে, যা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে। অন্যদিকে, ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদোন সার এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। জেরুজালেমের মর্যাদা বহু দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যু। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে, আর সেই কারণেই শহরটির চূড়ান্ত মর্যাদা নির্ধারণকে বহু আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগে শান্তি আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এদিকে ইসরাইলভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ নতুন দূতাবাস নির্মাণ প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির দাবি, যে ভূমিতে দূতাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তা অতীতে ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন ছিল এবং ১৯৫০ সালের “অনুপস্থিত সম্পত্তি আইন”-এর আওতায় বাজেয়াপ্ত করা হয়। আদালাহর মতে, ওই ভূমিতে স্থায়ী দূতাবাস নির্মাণ একটি ঐতিহাসিক অবিচারকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে এবং ভূমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেরুজালেমে স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস নির্মাণের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও এটি ফিলিস্তিন প্রশ্ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী দিনগুলোতে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী উপস্থিতি জোরদার, চুক্তি ঘিরে মিশ্র আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
