ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, ইউরোপে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘায়িত প্রভাব এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পদের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উচ্চ প্রস্তুতিসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজের সীমিত প্রাপ্যতা ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যদি একই সময়ে একাধিক অঞ্চলে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট দেখা দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে তার সামরিক সম্পদ পুনর্বিন্যাস করতে হতে পারে এবং সেই ক্ষেত্রে কোন অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে পারে দেশটির প্রতিরক্ষা নেতৃত্ব।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলেছিল, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা সেই কাঠামোর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে ন্যাটো সদস্যদের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মিত্রদের প্রতি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক কৌশলগত ফ্রন্টে সক্রিয় থাকতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি, নতুন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং মিত্র দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশ্ন আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ড্রোন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, সাইবার হামলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তির বিস্তার ঐতিহ্যগত সামরিক শক্তির পাশাপাশি নতুন ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। ফলে শুধু যুদ্ধজাহাজ বা সেনা মোতায়েন নয়, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতাও এখন বৈশ্বিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করলেও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে আরও বেছে বেছে সামরিক সম্পদ ব্যবহার করতে বাধ্য করতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা অংশীদারদের নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মূল্যায়ন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নয়, বরং আগামী দশকের বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, জোট রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।
ইসরায়েল অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কোন ও একটি বেছে নিন: মার্কিন জেনারেল
