বেলগ্রেড, ২৬ জুন: সার্বিয়ার একমাত্র তেল শোধনাগার পরিচালনাকারী এবং দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি বাজারে সরবরাহকারী রুশ-মালিকানাধীন জ্বালানি কোম্পানি এনআইএস (NIS) আগামী ১ জুলাইয়ের পরও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি)-এর কাছে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতির আবেদন করেছে। বর্তমান অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন অনুমতি না পেলে কোম্পানিটি অপরিশোধিত তেল আমদানি ও পরিশোধন করতে পারবে না, যা সার্বিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বাজারে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থেই নতুন অব্যাহতি অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, কোম্পানির মালিকানা কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ দূর করতে সহায়ক হতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর মস্কোর জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র যে বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তার অংশ হিসেবে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম নেফট ও গ্যাজপ্রমের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন এনআইএসের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। এরপর থেকে ওয়াশিংটন কোম্পানিটির রুশ মালিকানা কমানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছে এবং সেই প্রক্রিয়া চলমান থাকায় একাধিক অস্থায়ী অব্যাহতি প্রদান করেছে। এদিকে হাঙ্গেরির তেল ও গ্যাস কোম্পানি এমওএলকেও আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছে ওএফএসি, যাতে তারা গ্যাজপ্রম নেফট ও গ্যাজপ্রমের হাতে থাকা এনআইএসের ৫৬ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের আলোচনা সম্পন্ন করতে পারে। বর্তমানে সার্বিয়া সরকারের হাতে কোম্পানিটির ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অব্যাহতি না মিললে শুধু সার্বিয়ার জ্বালানি সরবরাহই নয়, সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এটি রাশিয়ার জ্বালানি খাতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকেও আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
