ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাত একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। হায়দরাবাদভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে দেশের প্রথম বেসরকারিভাবে উন্নয়ন করা অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’, যা ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ কর্মসূচিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে পরিচালিত ‘মিশন আগমন’-এর আওতায় উৎক্ষেপিত রকেটটি নির্ধারিত কক্ষপথে একাধিক বাণিজ্যিক পেলোড ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষামূলক সরঞ্জাম সফলভাবে স্থাপন করেছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে ভারত এমন কয়েকটি দেশের কাতারে যুক্ত হয়েছে, যেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রযুক্তিতে অরবিটাল রকেট তৈরি ও মহাকাশে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফল উৎক্ষেপণ শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়; এটি ভারতের মহাকাশ খাতকে সরকারি সংস্থা আইএসআরও-নির্ভর কাঠামো থেকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বাণিজ্যিক পরিবেশে রূপান্তরের প্রতীক। ২০২০ সালে মহাকাশ খাত বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে ভারত সরকার যে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, স্কাইরুটের এই সাফল্যকে তার অন্যতম বড় ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোম্পানিটি ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা বৈশ্বিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।
স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের প্রতিষ্ঠাতারা আইএসআরওর সাবেক প্রকৌশলী। তাদের তৈরি চার-ধাপবিশিষ্ট ‘বিক্রম-১’ রকেটে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক কার্বন-কম্পোজিট কাঠামো, ত্রিমাত্রিক (3D) প্রিন্টেড ইঞ্জিন এবং দেশীয়ভাবে উন্নয়ন করা প্রপালশন প্রযুক্তি। এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই নয়, বরং ভারতের উদীয়মান মহাকাশ স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের পরিপক্বতাও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্র উপগ্রহ, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাভিত্তিক মহাকাশ মিশনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে স্কাইরুটের সফল উৎক্ষেপণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অর্জন নতুন বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ চুক্তির পথ আরও সুগম করবে। একই সঙ্গে এটি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য—বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক মহাকাশ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ—বাস্তবায়নের দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইএসআরওর পর বেসরকারি খাতের বড় সাফল্য, কক্ষপথে পৌঁছাল ভারতের ‘বিক্রম-১’
