মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার, সামরিক উপদেষ্টা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন–সম্পর্কিত সরঞ্জাম ইয়েমেনে পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে হুথিদের আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবে বিবেচিত। জানা গেছে, ইরান থেকে উড্ডয়ন করা একটি বিমান হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আইআরজিসি সদস্য, সামরিক বিশেষজ্ঞ এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি–সংক্রান্ত সরঞ্জাম বহন করে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তার মাধ্যমে হুথিদের দীর্ঘপাল্লার হামলার সক্ষমতা, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং সামুদ্রিক আক্রমণ পরিচালনার দক্ষতা আরও বাড়ানোই ছিল তেহরানের লক্ষ্য। এমন সময়ে এই পদক্ষেপের খবর সামনে এলো, যখন ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পশ্চিমা ও আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, এটি শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তি সহায়তা নয়; বরং হুথিদের সামরিক অভিযানে সরাসরি কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। অন্যদিকে, ইরান বরাবরের মতোই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ইয়েমেনে পরিচালিত তাদের বিমান চলাচল মানবিক ও লজিস্টিক সহায়তার উদ্দেশ্যে ছিল এবং সেখানে কোনো সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যদি হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে।
