যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান ভবিষ্যতে আর কখনোই এই প্রণালি বন্ধ করবে না—এই দুই ঘোষণার পর শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে; ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম (ইডিটি) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে (১৪৫০ জিএমটি) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলে ১২.৮৭ ডলার বা ১২.৯৫ শতাংশ কমে ৮৬.৫২ ডলারে নেমে আসে, যা লেনদেনের একপর্যায়ে ৮৬.০৯ ডলারে পৌঁছেছিল; একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলে ১৩.৫০ ডলার বা ১৪.২৬ শতাংশ কমে ৮১.১৯ ডলারে দাঁড়ায় এবং একপর্যায়ে ৮০.৫৬ ডলারে নেমে আসে, যা ১০ মার্চের পর উভয় চুক্তির জন্য সর্বনিম্ন এবং ৮ এপ্রিলের পর একদিনে সবচেয়ে বড় দরপতন; লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, আর ইউবিএস বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনাভো বলেন এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধবিরতির সময় উত্তেজনা কম থাকতে পারে এবং এখন দেখার বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে কি না; এদিকে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদক জানান যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তিন পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে; সপ্তাহান্তে সম্ভাব্য নতুন আলোচনা এবং লেবানন-ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির কারণে লেনদেনের শুরুতেই তেলের দাম কমতে শুরু করে, কারণ বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সমাপ্তি ঘনিয়ে আসছে বলে আশা করছেন; আলোচনার একটি বড় বাধা প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, তেহরান আগামী ২০ বছরের বেশি সময় পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রস্তাব দিয়েছে এবং বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন তারা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন; শুক্রবার তিনি আরও জানান যে লেবাননে ইসরায়েলের অতিরিক্ত বোমা হামলার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েল সম্পর্কে তিনি তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিয়েছেন; তবে প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণার পরও এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান যে ১০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য নিয়ে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে; এসইবি রিসার্চের বিশ্লেষক ওলে ভালবি বলেন প্রণালি খুলে দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ইউরোপের জ্বালানি বাজারে কিছুদিন অস্থিরতা থাকতে পারে, কারণ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপের প্রধান বন্দর রটারড্যামে তেল পৌঁছাতে প্রায় ২১ দিন সময় লাগে; পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক তামাস ভার্গা সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে ভবিষ্যতে আবারও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
