মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক নানা জল্পনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প ও হার্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মন্তব্য এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের পর ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত ও হতাশ বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প ও হার্পের মধ্যে কোনো অনৈতিক বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
বিতর্কের সূত্রপাত আরও তীব্র হয় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের মন্তব্যের পর। তিনি ট্রাম্প ও ৩৫ বছর বয়সী হার্পকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সহযোগীর সম্পর্ক স্বাভাবিক পেশাগত সীমার বাইরে চলে গেছে।
হোয়াইট হাউস দ্রুত ওই মন্তব্যকে ভিত্তিহীন গুজব হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে। প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারাও অসফের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে হার্পকে ট্রাম্পের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সহযোগী হিসেবে তুলে ধরা হয়।
হার্পকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের সরকারি অনুষ্ঠান, বৈঠক ও সফরে আগের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হতে দেখা গেছে। এই ঘনিষ্ঠ উপস্থিতিই রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে বিতর্কের কেন্দ্র শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুঞ্জন নয়। হার্পের প্রেসিডেন্টের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আগে উদ্বেগের কথা প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছিল, হার্প বিভিন্ন সংবাদ ও তথ্য ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কিত বা ষড়যন্ত্রমূলক উৎসের তথ্যও তার কাছে পৌঁছাতে পারেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের কাজের ঘনিষ্ঠতাও প্রকাশ্যে আসে। সে সময় ট্রাম্প তাকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামে অভিহিত করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হার্প সঙ্গে একটি প্রিন্টার রাখতেন এবং প্রেসিডেন্টের আগ্রহের বিষয় হতে পারে—এমন সংবাদ দ্রুত ছাপিয়ে তাকে দিতেন।
পরবর্তীতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হলে হার্প নির্বাহী সহকারী হিসেবে হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও তাকে ট্রাম্পের বক্তব্য দ্রুত টাইপ করে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করতে দেখা যায়।
এদিকে ট্রাম্পের পাশে সাম্প্রতিক সময়ে মেলানিয়ার তুলনামূলক কম উপস্থিতি নতুন জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে ফার্স্ট লেডির অনুপস্থিতিকে ট্রাম্প ও হার্পের সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোর-এর এক প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পেছনে মেলানিয়ার এসব জল্পনা অপছন্দ করার বিষয়টি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয় এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
ওভাল অফিসে এক সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে অসফের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। একই সময়ে তিনি অসফের সমালোচনা করেন।
এই বিতর্কে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়াও বেশ কঠোর হয়েছে। প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ দলের কর্মকর্তারা অসফের মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন।
সব মিলিয়ে, নাটালি হার্পকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কটি মূলত তিনটি প্রশ্নকে সামনে এনেছে—ট্রাম্পের সঙ্গে তার অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার সম্ভাব্য প্রভাব এবং মেলানিয়া ট্রাম্পের এ বিষয়ে অবস্থান।
তবে এখন পর্যন্ত এসব প্রশ্নের বেশিরভাগই দাবি, রাজনৈতিক মন্তব্য ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুঞ্জনকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বিতর্কটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ প্রভাববলয়, প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ভূমিকা এবং হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
