By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
AlMujaddid 24AlMujaddid 24
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • ধর্ম
    • সারাদেশ
    • ঈমান
    • ইবাদাত
    • আকীদা
    • আখিরাত
    • ইতিহাস
    • ফিকহ
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • শিক্ষা
  • খেলা
  • বাণিজ্য
  • আন্তর্জাতিক
Search
Health
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • ধর্ম
    • সারাদেশ
    • ঈমান
    • ইবাদাত
    • আকীদা
    • আখিরাত
    • ইতিহাস
    • ফিকহ
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • শিক্ষা
  • খেলা
  • বাণিজ্য
  • আন্তর্জাতিক
  • Contact
  • Blog
  • Complaint
  • Advertise
© ২০২৫ Al-Mujaddid 24 | সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Reading: বিশ্ব জাকের মঞ্জিল: ছোট্ট জাকের ক্যাম্প থেকে বৃহৎ আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানে উত্তরণের ইতিহাস
Share
Sign In
Notification Show More
Font ResizerAa
AlMujaddid 24AlMujaddid 24
Font ResizerAa
Search
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • ধর্ম
    • সারাদেশ
    • ঈমান
    • ইবাদাত
    • আকীদা
    • আখিরাত
    • ইতিহাস
    • ফিকহ
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • শিক্ষা
  • খেলা
  • বাণিজ্য
  • আন্তর্জাতিক
Have an existing account? Sign In
Follow US
  • Contact
  • Blog
  • Complaint
  • Advertise
© ২০২৫ Al-Mujaddid 24 | সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
AlMujaddid 24 > Blog > সূফিবাদ > বিশ্ব জাকের মঞ্জিল: ছোট্ট জাকের ক্যাম্প থেকে বৃহৎ আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানে উত্তরণের ইতিহাস
সূফিবাদ

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল: ছোট্ট জাকের ক্যাম্প থেকে বৃহৎ আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানে উত্তরণের ইতিহাস

Rezaul Karim
Last updated: August 11, 2026 1:08 pm
Rezaul Karim
Share
Oplus_131072
SHARE

ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিল। বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহামহিম প্রতিষ্ঠাতা হযরত মওলানা শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী কুদ্দেসা সিররুহুল আজিজ ছাহেব। হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী ছাহেবের পূর্ণ নাম হযরত মওলানা শাহসূফী মোহাম্মদ হাসমত উল্লাহ নকশবন্দী মুজাদ্দেদী (কু.ছে.আ.)। দেশ-বিদেশের অসংখ্য জাকেরান, আশেকান ও ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমানের কাছে তিনি ‘খাজাবাবা’ নামেই সুপরিচিত। তিনি উপমহাদেশের মহান তাপস ও সুফিসাধক হযরত মওলানা শাহসূফী খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রহ.) ছাহেবের অন্যতম প্রিয় মুরিদ ও খলিফা ছিলেন। খাজাবাবা ফরিদপুরী ছাহেব তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার এবং বর্তমান শেরপুর জেলার পাকুরিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শাহ আলিমুদ্দিন ছাহেব। বিশ্বস্রষ্টা ও পরম কৌশলী আল্লাহপাকের ইচ্ছায় খাজাবাবা ফরিদপুরী মাত্র এক বছর বয়সে মাতৃহারা হন। শিশু বয়সে সাধক পিতা হযরত আলিমুদ্দিন ছাহেব ও স্নেহময়ী দাদীর ভালোবাসায় তাঁর শৈশব জীবন গড়ে ওঠে। তাঁর পিতামহ মরহুম বশির উদ্দিন ছাহেব ছিলেন নেত্রকোনার অধিবাসী। পরবর্তীতে তিনি শেরপুরের পাকুরিয়া গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন। মরহুম বশির উদ্দিন ছাহেবের পুত্র জনাব সমির উদ্দিন ছাহেব ছিলেন হযরত মওলানা শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ছাহেবের দাদা। ছোটবেলা থেকেই খাজাবাবা ফরিদপুরী বেশিরভাগ সময় অসুস্থ থাকতেন। কখনো কখনো তাঁর অসুস্থতার মাত্রা এত বেশি হতো যে তাঁর নাড়ির স্পন্দন পর্যন্ত অনুভূত হতো না। ফলে চারদিকে অনেক সময় খাজাবাবার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ত। তাঁর অনুসারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, খাজাবাবা ফরিদপুরীর প্রতি শাহসূফী খাজা এনায়েতপুরী ছাহেবের বিশেষ দয়ার দৃষ্টি ছিল। খাজাবাবা ফরিদপুরীর শৈশবের একটি রোগের কথাও তাঁর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর নানাজান তখন জীবিত ছিলেন। খাজাবাবা ফরিদপুরী নিজের ঘরে মাঝে মাঝে এমন একটি আলো দেখতে পেতেন, যা আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর মতো তীব্র ছিল। সেই আলোর ঝলক দেখে তিনি কখনো কখনো জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়তেন। কেউ বলত এটি অশরীরী প্রভাব, আবার কেউ বলত জিনের তাসির। খাজাবাবা ফরিদপুরীর নানাজান ছিলেন একজন নামকরা ফকির ও দরবেশ। তাঁর চেষ্টা ও তদবির এবং খাজা এনায়েতপুরীর ওসিলায় আল্লাহপাক তাঁকে সেই রোগ থেকে মুক্তি দেন—এমন বর্ণনা প্রচলিত রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই খাজাবাবা ফরিদপুরী নির্জনতা পছন্দ করতেন। একা একা থাকতে তাঁর ভালো লাগত। শৈশব ও কৈশোরে তাঁর তেমন বন্ধু-বান্ধব ছিল না। তাঁর গ্রামের বাড়িতে একটি পুকুর ছিল। তিনি সেই পুকুরে একা একা ঢিল ছুড়তেন। অনেক মাটির টুকরো বা ইটের খণ্ড এক জায়গায় জড়ো করে একের পর এক সেগুলো পুকুরে নিক্ষেপ করতেন। একদিন খাজাবাবা ফরিদপুরী স্বপ্নে দেখতে পান, তিনি পুকুরে একা একা ঢিল ছুড়ছেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর বয়সী একটি সুন্দর ছেলে এসে তাঁর সঙ্গে ঢিল ছুড়তে শুরু করল। দুজন মিলে মাটির টুকরো পুকুরে ফেলছিলেন। এমন সময় খাজাবাবার আব্বাজান তাঁকে ডাকেন। পিতার কাছে গেলে তিনি বলেন, ‘বাবা, তোমার সঙ্গে যে ছেলেটি খেলছিল, তিনি মদিনা থেকে এসেছেন। তুমি তাঁকে তোমার সঙ্গে রাখার চেষ্টা করো, যেন তিনি চলে যেতে না পারেন।’ পিতার কাছ থেকে এই মূল্যবান তথ্য পাওয়ার পর খাজাবাবা মদিনার সেই মেহমানকে খেলার সঙ্গী হিসেবে ধরে রাখার জন্য নানা কৌশল করতে থাকেন। এরপরই তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। তাঁর অনুসারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই ছোটবেলা থেকেই খাজাবাবা ফরিদপুরী মাঝে মাঝে এমন তাৎপর্যপূর্ণ স্বপ্ন দেখতেন। খাজাবাবা ফরিদপুরীর বয়স যখন পাঁচ থেকে ছয় বছর, তখন নোয়াখালী জেলার সুপ্রসিদ্ধ ও সুযোগ্য আলেম মাওলানা সারাফাত আলী ছাহেবের কাছে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয়। স্কুলে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি চলতে থাকে ধর্মীয় জ্ঞান, আরবি ও ফারসি শিক্ষা। পরবর্তীতে তিনি নান্দিনা হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। বাংলা ১৩২৮ কিংবা ১৩২৯ সালের দিকে ভারত উপমহাদেশের অবিসংবাদিত প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক পুরুষ হযরত শাহসূফী খাজা এনায়েতপুরী (কু.ছে.আ.) ছাহেব শেরপুরের পাকুরিয়ার বগাবায়িত নিবাসী মোহাম্মদ নঈমুদ্দিন মুন্সি ছাহেবের বাড়িতে আসেন। নঈমুদ্দিন মুন্সি খাজা এনায়েতপুরীর অত্যন্ত মহব্বতের মুরিদ ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আলাপকালে খাজা এনায়েতপুরী বলেন, ‘তোমাদের গ্রামের সর্দারকে ডাকিয়া আন।’ খাজাবাবার পিতা জনাব আলীমুদ্দিন ছাহেব মুজাদ্দেদী ছিলেন ওই এলাকার সর্বাধিক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। নঈমুদ্দিন মুন্সি তাঁকে ডেকে আনেন। খাজা এনায়েতপুরীর সঙ্গে আলীমুদ্দিন ছাহেবের দীর্ঘ সময় আলাপ-আলোচনা হয়। আলীমুদ্দিন ছাহেব খাজা এনায়েতপুরীর উপদেশে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুনয়-বিনয় করেন। খাজা এনায়েতপুরীও বাড়িতে যেতে রাজি হন। খাজাবাবা ফরিদপুরীর সঙ্গে খাজা এনায়েতপুরীর প্রথম দেখা হয় তাঁর বয়স যখন মাত্র আট বছর। খাজা এনায়েতপুরীর দীপ্তিময় চেহারা দেখে খাজাবাবা ফরিদপুরী মুগ্ধ হন। সেই দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে খাজাবাবা ফরিদপুরী বলেন, সময় ছিল আসরের সময়। তাঁর মনে হয়েছিল চারদিক বেহেশতি সৌরভে পুরো বাড়ি মুখরিত হয়ে উঠেছিল। আলাপ-আলোচনার মধ্যেই খাজা এনায়েতপুরী খাজাবাবার পিতাকে বলেন, ‘বাবা, আপনার দুই ছেলে আমাকে দেন।’ খাজাবাবার আব্বা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে এবং তাঁর বড় ভাইকে দিয়ে দেন। খাজা এনায়েতপুরী তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কোনো দাবি রাখলেন না তো?’ উত্তরে খাজাবাবার পিতা বলেন, ‘কোনো দাবি রাখি নাই।’ খাজা এনায়েতপুরী আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘দিয়ে দিলেন তো?’ তিনি পুনরায় বলেন, ‘দিয়ে দিলাম, কোনো দাবি রাখি নাই।’ এভাবেই দেওয়া-নেওয়ার পর্ব শেষ হয়। খাজা এনায়েতপুরী পাকুরিয়ায় যাওয়ার দুই বছর পর, খাজাবাবা ফরিদপুরীর বয়স যখন প্রায় দশ বছর, তখন তিনি তাঁর পিতার সঙ্গে বাংলা-আসামের বিখ্যাত সুফিসাধক হযরত খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী ছাহেবের দরবারে আসেন এবং তাঁর পাককদমে আত্মসমর্পণ করেন। তখন থেকেই ভবিষ্যতের এই মহান সুফিসাধকের সাধনাজীবন শুরু হয় বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন। অল্প বয়স থেকেই তিনি তাঁর পীরের খেদমতে সম্পূর্ণ আত্মনিয়োগ করেন। খাজা এনায়েতপুরী ছাহেব তাঁকে শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফাতের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন। খাজা এনায়েতপুরী তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং খাজাবাবা ফরিদপুরীও আপন পীরের খেদমতে আত্মনিয়োগ করে আনন্দ পেতেন। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পীরের কদমে অনাহার-অনিদ্রা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, চরম দারিদ্র্য, কঠোর শ্রম ও অপরিসীম ত্যাগের মধ্য দিয়ে তাঁকে জীবন কাটাতে হয়—এমন বর্ণনা তাঁর জীবনীতে পাওয়া যায়। আপন পীরের দরবারে খেদমত প্রসঙ্গে খাজাবাবা ফরিদপুরী বলেন, পীর কেবলাজান তাঁকে তেমন খেতে দিতেন না; দিনে একবার, কখনো বা দুইবার খাবার দিতেন। খাদ্য কম দেওয়া যেন শুধু তাঁর জন্যই নির্ধারিত ছিল, অথচ পরিশ্রম তাঁকেই সকলের চেয়ে বেশি করতে হতো। খাদ্য কম, কাজ বেশি—ক্ষুধার্ত পেটে দুর্বল শরীর নিয়েই তাঁকে মাটি কাটতে হতো, ছয় মাইল দূর থেকে টুকরি ভর্তি বাসন আনতে হতো। এছাড়াও যমুনা নদীর তীরে স্থলচর ঘাট থেকে গরুর গাড়িতে করে ধান, চাল ও ডাল আনতে হতো। একদিন পীর কেবলাজান তাঁকে বলেন, ‘বাবা, তুমি যদি আল্লাহকে পাইতে চাও, তবে ত্যাগী হও।’ তিনি বাড়িতে গিয়ে আব্বাজানকে পীর কেবলাজানের উপদেশের কথা বললে তাঁর পিতা বলেন, ‘বাবা, বড়ই কঠোর হুকুম। তোমাকে সর্বস্ব ত্যাগ করতে হবে।’ এরপর খাজাবাবা তাঁর সমুদয় জমিজমা ও সহায়-সম্পদ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ পীর কেবলাজানের কদমে নজরানা প্রদান করেন এবং নিজেকে মিসকিন হিসেবে গ্রহণ করেন। এরপরও পীরের দরবারে তাঁর নিরলস খেদমত চলতে থাকে। অনাহার-অনিদ্রা ও কঠোর খেদমতের মধ্য দিয়ে জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। পরবর্তীতে খাজা এনায়েতপুরীর নির্দেশে খাজাবাবা ফরিদপুরী কলকাতার ৬ নম্বর হায়াত খান লেনে তাঁর মামাতো ভাই সামাদ ছাহেবের বাসায় অবস্থান করেন। তাঁর সঙ্গে সেখানে আরও দুইজন থাকতেন—জনাব মহসীনউদ্দিন খান ছাহেব ও সিরাজ ছাহেব। পীরের নির্দেশে কিছুদিন কলকাতায় অবস্থানকালে মহসীনউদ্দিন খান ছাহেবের সঙ্গে খাজাবাবার পরিচয় হয়। একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও রহস্যময় স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিছুদিন পর মহসীনউদ্দিন খান ছাহেবকে সঙ্গে নিয়ে খাজা এনায়েতপুরীর দরবারে গেলে মহসীনউদ্দিন খান খাজা এনায়েতপুরীর বায়াত গ্রহণ করেন। এরপর মহসীনউদ্দিন খান খাজাবাবা ফরিদপুরীকে ফরিদপুরে তাঁর নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। হযরত খাজা এনায়েতপুরীর নির্দেশে খাজাবাবা ফরিদপুরীর বড় ভাইয়ের কন্যার সঙ্গে জনাব মহসীনউদ্দিন খান ছাহেবের বিবাহ হয়। পরবর্তীতে খাজা এনায়েতপুরীর আরেক নির্দেশে মহসীনউদ্দিন খান ছাহেবের ভাইয়ের কন্যার সঙ্গে খাজাবাবা ফরিদপুরীর বিবাহ হয়। এভাবে আটরশিতে মহসীনউদ্দিন খান ছাহেবের সঙ্গে খাজাবাবার আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিবাহের প্রায় ১২ বছর পর খাজাবাবা ফরিদপুরীর প্রথম সহধর্মিণী ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে হযরত খাজা এনায়েতপুরীর নির্দেশে তিনি মহসীনউদ্দিন খান ছাহেবের অন্য এক ভাইয়ের কন্যাকে বিবাহ করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর পর তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীও ইন্তেকাল করেন। এভাবেই খাজাবাবা ফরিদপুরীর আটরশিতে স্থায়ীভাবে অবস্থানের পথ তৈরি হয়। হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.) তাঁর পীরের নির্দেশে ফরিদপুর জেলায় অবস্থান করতে থাকেন এবং নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া তরিকার প্রচার করতে থাকেন। হযরত খাজা এনায়েতপুরী তাঁর প্রিয় মুরিদকে নির্দেশ দেন, ‘তুমি ফরিদপুরে যাও। ফরিদপুর তোমার দাদাপীর খাজা ওয়াজেদ আলী (রহ.)-এর দেশ। সেই দেশে তুমি সত্য তরিকা প্রচার করতে থাকো।’ যেদিন খাজাবাবা ফরিদপুরীকে খেলাফতনামা দিয়ে আটরশির জমিনে পাঠানো হয়, সেদিন বিদায়ের সময় তিনি আবেগে কাঁদছিলেন। খাজা এনায়েতপুরীও চোখের পানি ফেলতে ফেলতে দুটি পয়সা তাঁর হাতে দিয়ে বলেন, ‘বাবা, এই দুটি পয়সা আমি তোমাকে দিলাম, এটা তুমি তোমার কাছে রাখো।’ খাজাবাবা বলেন, ‘হুজুর, জীবনে কোনোদিন পয়সার জন্য পীরের কদমে যাই নাই। চল্লিশটি বছর আমি আপনার কদমে গোলামী করেছি, সাধনা করেছি, অভাব-অনটনে আপনার দরবারে না খেয়ে থেকেছি। এর বিনিময়ে পয়সা আমি চাই না। হুজুরের দয়ায় আমার জন্য যথেষ্ট হবে।’ খাজা এনায়েতপুরী বলেন, ‘বাবা, পীর তোমাকে দিয়েছে, পীরের জিনিস ফেরত দিতে হয় না। বাবা, তুমি এটা গ্রহণ করো।’ তখন খাজাবাবা বলেন, ‘বাবা ঠিক আছে, এটা আমি আমার কাছে যত্ন করে রেখে দিলাম।’ এরপর আবারও কান্নায় ভেঙে পড়েন। খাজা এনায়েতপুরী তখন বলেন, ‘বাবা, এই দুইটা পয়সা—একটা তোমার এহকালের বাদশাহী, আর একটা তোমার পরকালের বাদশাহী।’ এরপর খাজাবাবা তাঁর পীরের আদেশ পালন করার জন্য ফরিদপুরে আগমন করেন। বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম যেদিন খাজাবাবা আটরশিতে আসেন, সেই দিনটি ছিল কোরবানির ঈদের দিন। তিনি দেখতে পান, ঈদের দিনেও লোকজন লাঙল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যাচ্ছে। সেখানে ঈদের নামাজ বা বড় কোনো সামাজিক জামাতের প্রচলন ছিল না। স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে ইসলামী বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞানও ছিল সীমিত। গরুর মাংসকে অনেকে অস্পৃশ্য মনে করত এবং পাশের হিন্দু জমিদারবাড়ির পূজায় অংশগ্রহণ ও প্রসাদ গ্রহণের ঘটনাও ছিল বলে তাঁর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে। খাজাবাবা ফরিদপুরী সেই ঈদের দিনে জনাব মহসীনউদ্দিন খান ও তাঁর দুই ভাইকে নিয়ে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। সেদিন তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, ‘হে খোদাতায়ালা! এই যে তিন-চারজন আমরা ঈদের নামাজ পড়লাম, দয়া করে তুমি এখানে বিশাল ঈদের জামাত কায়েম কর।’ তাঁর অনুসারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পরবর্তীতে সেখানে বৃহৎ ঈদের জামাত প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা ১৩৫৪ সাল থেকে খাজাবাবা ফরিদপুরী সত্য তরিকা প্রচারের কাজ শুরু করেন। মহসীনউদ্দিন খানের অতি ক্ষুদ্র একটি ছনের ঘর থেকে সত্য তরিকা প্রচারের কর্মসূচি শুরু হয়। এক বছর পর পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে মাত্র আট টাকায় একটি কুঁড়েঘর কেনা হয়। সেই কুঁড়েঘরটির নাম দেওয়া হয় ‘জাকের ক্যাম্প’। ঘরটির ছাউনি ছিল ছনের এবং বেড়া ছিল সুপারি খোলের। কয়েক বছরের ব্যবধানে ছনের তৈরি ক্যাম্পের জায়গায় টিনের ঘর ও বেড়া দেওয়া হয়। সময়ের বিবর্তনে সেই ছোট জাকের ক্যাম্পই আজ ‘বিশ্ব জাকের মঞ্জিল’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। একটি ছোট কুঁড়েঘর থেকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল হয়ে ওঠার এই যাত্রা জাকের সম্প্রদায়ের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। খাজাবাবার একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও আধ্যাত্মিকতার আকর্ষণে মানুষ ধীরে ধীরে দলে দলে সত্য তরিকায় দীক্ষিত হতে থাকে। দীর্ঘ প্রায় ৪৮ বছর সত্য তরিকা প্রচারের পর সেই ক্ষুদ্র জাকের ক্যাম্প বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে রূপান্তরিত হয় এবং অসংখ্য জাকেরান ও আশেকানের কাছে এটি তরিকত শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক সাধনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে এর অনুসারীরা আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মহব্বত অর্জনের একটি আধ্যাত্মিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে আত্মোপলব্ধির তাড়নায়, নিজেকে চিনতে, আল্লাহকে চিনতে, জানতে ও বুঝতে এবং আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা অর্জনের উদ্দেশ্যে। শুধু দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকেও মানুষ এখানে আসে বলে অনুসারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়। বিশ্ব জাকের মঞ্জিল একটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এখানে আলিয়া মাদ্রাসা, ব্যাংকের শাখা, পোস্ট অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল এবং একটি বৃহৎ মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। জাকেরানদের থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন ভবন ও আবাসিক ব্যবস্থা। দিবা-নিশি শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফাত তথা পূর্ণাঙ্গ ইসলামী জীবন ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলে বলে অনুসারীরা জানান। খাজাবাবা ফরিদপুরীর দরবারে আগত ভক্ত-আশেকানদের উদ্দেশে তিনি বলতেন বলে বর্ণিত হয়েছে যে, যারা জাগতিক সমস্যা নিয়ে এখানে আসে, তাঁদের সমস্যা সমাধানের উপদেশ দেওয়ার মাধ্যমেই তিনি তাঁদের আধ্যাত্মিকতার শিক্ষা দিতেন এবং খোদাতায়ালার দিকে পথ দেখাতেন। তিনি মানুষের অন্তরে আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মহব্বতের আধ্যাত্মিক স্বাদ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্ব দিতেন বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন। বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মেহমানখানাও এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক মেহমান এখানে আসেন এবং তাঁদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয় বলে অনুসারীদের বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। যত মানুষই আসুক, তাঁদের জন্য নিয়ম-শৃঙ্খলার সঙ্গে খাবারের ব্যবস্থা করা হয় বলে দাবি করা হয়। হযরত শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.)-এর জীবনকে ঘিরে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে বহু কারামত ও অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা প্রচলিত রয়েছে। পাকিস্তান আমলের একটি ঘটনা এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। তখন বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরিফের কার্যক্রম ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে। হুজুর কেবলাজানের বুজুর্গির কথা তখন সবেমাত্র মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হচ্ছিল। স্থানীয় মানুষ তখন তাঁকে মূলত একজন মাওলানা হিসেবে বিবেচনা করত। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন তাঁর কাছে আসত এবং সঙ্গে হাঁস, মুরগি, চাল, ডাল, গরু ও অর্থসহ বিভিন্ন নজরানা নিয়ে আসত। স্থানীয় কিছু পীর ও ওলী-বিরোধী আলেমের কাছে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য ছিল না বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়। তাঁরা দূর-দূরান্ত থেকে আগত জাকেরদের পথে-ঘাটে নানা কটূক্তি করতেন এবং পীরের দরবারে যাতায়াতকে নিরুৎসাহিত করতেন। স্থানীয় আলেম সমাজ জাকেরদের নজরানা নিয়ে যাওয়াকে নাজায়েজ ও শরিয়তবিরোধী বলেও প্রচার করত বলে ওই বর্ণনায় বলা হয়েছে। খাজাবাবা শেরপুর থেকে ফরিদপুরের আটরশিতে এসে আস্তানা স্থাপন করেছেন এবং তাঁর কাছে মানুষ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে যাচ্ছে—এ বিষয়টি তাঁদের অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দেয়। হুজুর কেবলাজানের কাছে মানুষের যাতায়াত দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁকে আটরশি থেকে কীভাবে সরানো যায়, সে বিষয়ে একটি পরিকল্পনা করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে স্থানীয় কিছু আলেম বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র ও মসজিদের মুসল্লিদের নিয়ে দরবার শরিফের অদূরে একটি বায়েছ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত ছিল, বায়েছে হুজুর কেবলাজানকে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং সেখানে তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে আটরশি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হবে। নির্ধারিত দিনে কয়েকজন লোক দরবার শরিফে এসে হুজুর কেবলাজানকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। হুজুর সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। ঘটনাটি ছিল রবিবারের। তখন রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল। ছুটির কারণে দরবারের প্রবীণ জাকের ওসমান ডাক্তারও সেদিন দরবারে যান। দরবারে যাওয়ার পথে তিনি শুনে আসেন যে, দরবার শরিফের অদূরে সেদিন বায়েছ হবে এবং সেখানে হুজুর কেবলাজানের যাওয়ার কথা রয়েছে। ওসমান ডাক্তার ছিলেন সৌখিন মানুষ এবং পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি পরতেন। সেদিনও তিনি ধুতি পরে দরবারে যান। দরবারে গিয়ে হুজুর কেবলাজানের সঙ্গে দেখা করতেই হুজুর তাঁকে বলেন, ‘ডাক্তার সাহেব এসেছেন? আজ বাবা আমার একটা দাওয়াত আছে। আমি তো যেতে পারবো না, আমার পরিবর্তে আপনি সে দাওয়াতে যাবেন।’ ওসমান ডাক্তার এতে ভীষণ ভয় পেয়ে যান। তিনি ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান বায়েছে গিয়ে কী করবেন তা বুঝতে পারছিলেন না। পীরের হুকুমও অমান্য করতে পারছিলেন না। দুপুরে তাঁকে যেতে হবে। তিনি দরবারের বিভিন্ন খাদেমের কাছে গিয়ে চোখের পানি ফেলে বলেন, ‘ভাইজান, আজই আমার জীবনের শেষ দিন। হুজুর আমাকে বায়েছ অনুষ্ঠানে পাঠাবেন। আমি তো কোরআন-হাদিসের কিছুই জানি না। মাদ্রাসার ছাত্র ও মুসল্লিদের মার খেয়ে সেখান থেকে আজ আর ফিরে আসতে পারব না।’ যোহরের নামাজের পর হুজুর কেবলাজানের কদমবুছি করে ওসমান ডাক্তার রওনা হন। বায়েছ অনুষ্ঠানে গিয়ে যখন তিনি জানান যে, হুজুর কেবলাজান তাঁকে পাঠিয়েছেন, তখন উপস্থিত কয়েকজন আলেম উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একদিকে হুজুর নিজে আসেননি, অন্যদিকে পাঠিয়েছেন দাড়িবিহীন ধুতিপরা একজন ব্যক্তিকে। ওসমান ডাক্তার ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে যান। তিনি ধৈর্যসহকারে উপস্থিত আলেমদের বলেন, তাঁরা তাঁকে যা ইচ্ছা করতে পারেন, কিন্তু তাঁর পীরকে নিয়ে যেন কিছু না বলেন। তখন তাঁরা বলেন, ঠিক আছে, আমরা যা প্রশ্ন করব, তার জবাব দিতে হবে। ওসমান ডাক্তার কিছু না বলে হুজুর কেবলাজানের জন্য নির্ধারিত চেয়ারটির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁর ডানে-বামে বড় বড় পাগড়ি পরিহিত আলেমরা বিভিন্ন কিতাবের স্তূপ নিয়ে বসে ছিলেন। ওসমান ডাক্তার জীবনে এসব কিতাব পড়েননি বলেই বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। তিনি মনে মনে ভাবছিলেন, খাজাবাবা তাঁকে যেন প্রাণে মারার জন্যই এখানে পাঠিয়েছেন। মাঠভর্তি লোকজন, কারও কারও হাতে লাঠি-সোটাও রয়েছে। কারণ তাঁদের পরিকল্পনাই ছিল হুজুর কেবলাজানকে আটরশি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া। যাহোক, বায়েছ অনুষ্ঠান শুরু হলো। ওসমান ডাক্তার হুজুর কেবলাজানের চেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পীর-ফকিরদের সম্পর্কে নানা কটূক্তিসহ কয়েকজন অতিথি বক্তব্য দেন। এরপর ওসমান ডাক্তারকে প্রশ্ন করা শুরু হয়। কোরআন-হাদিস না পড়া একজন সাধারণ মানুষকে একদল প্রবীণ আলেমের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছিল। তিনি আতঙ্কিত হয়ে উপস্থিত লোকজনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ে সভার লোকজনের মাথার ওপর একটি বড় পর্দা। তাঁর অনুসারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি সেই পর্দার ওপর প্রশ্নগুলোর উত্তর দেখতে পান। এমনকি উত্তর কোন কিতাবের কোন অধ্যায়ে এবং কোন পৃষ্ঠায় রয়েছে, তাও তিনি দেখতে পান বলে বর্ণিত হয়েছে। তিনি পর্দায় দেখা সেই উত্তর অনুযায়ী একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিতে থাকেন। এভাবে যত প্রশ্ন করা হচ্ছিল, ততই তিনি উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলেন। কোনো প্রশ্নেই তাঁকে আটকানো যাচ্ছিল না। এতে উপস্থিত আলেমরা বিস্মিত হয়ে যান। তাঁরা বুঝতে পারেন, আটরশির পীরের একজন সাধারণ মুরিদও এমন জ্ঞান ও উত্তর দিচ্ছেন, যা তাঁদের বিস্মিত করেছে। একপর্যায়ে তাঁরা প্রশ্ন করা ছেড়ে দিয়ে ওসমান ডাক্তারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বলেন, ‘ভাই, না বুঝে আপনাকে অনেক কথা বলেছি, মাফ করে দেবেন।’ ওসমান ডাক্তার উত্তর দেন, ‘মাফ যদি চাইতে হয়, আমার পীরের কাছে গিয়ে চান। আমি যা কিছু বলেছি, সবই তাঁর শিখিয়ে দেওয়া।’ তিনি প্রকৃত ঘটনাটি গোপন রাখেন বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও দরবার শরিফ সম্পর্কে আগ্রহ বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে স্থানীয় লোকজন দরবারে আসতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন আলেমও খাজাবাবা ফরিদপুরীর তরিকাগত শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হন বলে অনুসারীদের বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.)-এর জীবন, সাধনা, ত্যাগ, পীরের প্রতি আনুগত্য, মানুষের সেবা ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা কেন্দ্র করে আটরশির ছোট জাকের ক্যাম্প ক্রমে একটি বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যা আজ বিশ্ব জাকের মঞ্জিল নামে পরিচিত। তাঁর অনুসারীদের বিশ্বাস, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওলীদের প্রতি বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ করেন এবং তাঁদের মাধ্যমে মানুষকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করেন। খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.)-এর জীবন ও সাধনা তাঁদের কাছে আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মহব্বত, আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ, খেদমত ও সত্যের পথে চলার অনুপ্রেরণার উৎস। আল্লাহ তাআলা হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.)-এর উসিলায় আমাদের সবাইকে উত্তম হেদায়েত দান করুন, সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করুন, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের তৌফিক দান করুন এবং আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মহব্বতে আমাদের অন্তর পরিপূর্ণ করে দিন। আমিন।

You Might Also Like

Baisharashi Bishwa Zaker Manzil is crowded with followers from home and abroad on the occasion of the holy Bishwa Fateha Sharif.

আউলাদে রাসূল (ﷺ): আহলে বাইতের পরিচয়, মর্যাদা ও ভালোবাসার গুরুত্ব

Sufism, Social Reform and the Spread of Islam: 10 Legendary Spiritual Saints of the Subcontinent

The historic mosque in Damascus will be the place where Prophet Jesus (PBUH) will descend in the end times.

“সুফিবাদ: আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে মিলনের পথ”

Sign Up For Daily Newsletter

Be keep up! Get the latest breaking news delivered straight to your inbox.
[mc4wp_form]
By signing up, you agree to our Terms of Use and acknowledge the data practices in our Privacy Policy. You may unsubscribe at any time.
Share This Article
Facebook Copy Link Print
Share
Previous Article সালাফি চিন্তার উত্থান থেকে সৌদি রাষ্ট্র: ওয়াহহাবি-সৌদি জোটে কীভাবে বদলে গেল আরবের মানচিত্র

Stay Connected

248.1kLike
69.1kFollow
134kPin
54.3kFollow
banner banner
Create an Amazing Newspaper
Discover thousands of options, easy to customize layouts, one-click to import demo and much more.
Learn More

নতুন ব্লগ পড়ুন

সালাফি চিন্তার উত্থান থেকে সৌদি রাষ্ট্র: ওয়াহহাবি-সৌদি জোটে কীভাবে বদলে গেল আরবের মানচিত্র
আকীদা
‘Situation is very dangerous’ – Türkiye fears Russia using nuclear weapons
বিশ্ব
পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে রাশিয়া, সতর্ক করলেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক
ইরানের ভয়ে খাবারের কার্টে লুকিয়ে সামরিক বিমানে উঠে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক

You Might also Like

সূফিবাদ

বাংলাদেশে ইসলামের প্রচারে সুফিবাদের ভূমিকা: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা

Rezaul Karim
Rezaul Karim
5 Min Read
সূফিবাদ

Sufism in the light of the Quran and Sunnah

Rezaul Karim
Rezaul Karim
4 Min Read
সূফিবাদ

الإمام الحسن (رضي الله عنه) والحسين (رضي الله عنه) সর্বোত্তম বংশ

Rezaul Karim
Rezaul Karim
4 Min Read
AlMujaddid 24AlMujaddid 24
Follow US
© ২০২৫ Al-Mujaddid 24 | সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Welcome Back!

Sign in to your account

Username or Email Address
Password

Lost your password?

Not a member? Sign Up