By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
AlMujaddid 24AlMujaddid 24
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • ধর্ম
    • সারাদেশ
    • ঈমান
    • ইবাদাত
    • আকীদা
    • আখিরাত
    • ইতিহাস
    • ফিকহ
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • শিক্ষা
  • খেলা
  • বাণিজ্য
  • আন্তর্জাতিক
Search
Health
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • ধর্ম
    • সারাদেশ
    • ঈমান
    • ইবাদাত
    • আকীদা
    • আখিরাত
    • ইতিহাস
    • ফিকহ
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • শিক্ষা
  • খেলা
  • বাণিজ্য
  • আন্তর্জাতিক
  • Contact
  • Blog
  • Complaint
  • Advertise
© ২০২৫ Al-Mujaddid 24 | সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Reading: সালাফি চিন্তার উত্থান থেকে সৌদি রাষ্ট্র: ওয়াহহাবি-সৌদি জোটে কীভাবে বদলে গেল আরবের মানচিত্র
Share
Sign In
Notification Show More
Font ResizerAa
AlMujaddid 24AlMujaddid 24
Font ResizerAa
Search
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • ধর্ম
    • সারাদেশ
    • ঈমান
    • ইবাদাত
    • আকীদা
    • আখিরাত
    • ইতিহাস
    • ফিকহ
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • শিক্ষা
  • খেলা
  • বাণিজ্য
  • আন্তর্জাতিক
Have an existing account? Sign In
Follow US
  • Contact
  • Blog
  • Complaint
  • Advertise
© ২০২৫ Al-Mujaddid 24 | সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
AlMujaddid 24 > Blog > আকীদা > সালাফি চিন্তার উত্থান থেকে সৌদি রাষ্ট্র: ওয়াহহাবি-সৌদি জোটে কীভাবে বদলে গেল আরবের মানচিত্র
আকীদা

সালাফি চিন্তার উত্থান থেকে সৌদি রাষ্ট্র: ওয়াহহাবি-সৌদি জোটে কীভাবে বদলে গেল আরবের মানচিত্র

Rezaul Karim
Last updated: August 11, 2026 10:36 am
Rezaul Karim
Share
SHARE

আরব উপদ্বীপের আধুনিক রাজনৈতিক মানচিত্র এক দিনে তৈরি হয়নি। বর্তমান সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে কয়েক শতাব্দীজুড়ে চলা ধর্মীয় বিতর্ক, গোত্রীয় রাজনীতি, সামরিক অভিযান, উসমানীয় সাম্রাজ্যের সঙ্গে সংঘাত, ব্রিটিশ কূটনীতি, তেলসম্পদের উত্থান এবং পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর কৌশলগত সম্পর্ক। এই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো অষ্টম হিজরি শতকের ইবনে তাইমিয়্যাহর ধর্মতাত্ত্বিক চিন্তা, অষ্টাদশ শতকের মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবের সংস্কার আন্দোলন এবং দিরিয়াহর শাসক মুহাম্মদ ইবনে সৌদের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক জোট—যে সমঝোতা পরবর্তী সৌদি রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ইতিহাসবিদদের কাছে এই ধারাকে সরলভাবে “ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে সরাসরি সালাফিবাদ, তারপর সৌদি রাষ্ট্র”—এমন একরৈখিক ইতিহাস হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়; কারণ আহলুল-হাদিস ও আছারি চিন্তার শিকড় ইবনে তাইমিয়্যাহর বহু আগেই বিদ্যমান ছিল এবং আধুনিক “সালাফিবাদ” একটি পরবর্তী ঐতিহাসিক বিকাশ।
ইবনে তাইমিয়্যাহ (৬৬১–৭২৮ হিজরি/১২৬৩–১৩২৮ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ইসলামি চিন্তাবিদ। তিনি কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন, প্রাথমিক মুসলিম প্রজন্মের ব্যাখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ধর্মীয় জীবনে পরবর্তীকালে যুক্ত হওয়া কিছু রীতির কঠোর সমালোচনার জন্য পরিচিত হন। আল্লাহর গুণাবলি, তাওয়াসসুল, কবর জিয়ারত, তাওহিদের ব্যাখ্যা, তালাকসহ বিভিন্ন ফিকহি ও আকিদাগত প্রশ্নে তাঁর অবস্থান তাঁর সমসাময়িক ও পরবর্তী বহু আলেমের সঙ্গে মতবিরোধ সৃষ্টি করে। তাঁকে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছিল। তাঁর সমালোচকদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে তাকি আল-সুবকি, ইবন হাজর আল-হাইতামি প্রমুখের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। তবে এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর যুগে সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য কোনো প্রান্তিক ব্যক্তি ছিলেন না; তিনি একই সঙ্গে ব্যাপক অনুসারী ও শক্তিশালী সমালোচক—উভয়ই তৈরি করেছিলেন।
ইবনে তাইমিয়্যাহর চিন্তার সঙ্গে আধুনিক সালাফিবাদের সম্পর্ক নিয়ে গবেষকদের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে। তাঁকে আধুনিক সালাফি চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরি হিসেবে দেখা হলেও “সালাফিবাদ” নামের আধুনিক ধর্মীয় পরিচয় ও আন্দোলনকে সরাসরি ইবনে তাইমিয়্যাহর যুগে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বতন্ত্র মাজহাব হিসেবে বর্ণনা করা ইতিহাসগতভাবে অতিরঞ্জিত। বরং তাঁর চিন্তার বিভিন্ন অংশ পরবর্তী শতাব্দীতে পুনরুজ্জীবিত ও নতুন রাজনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করা হয়।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সংশোধনও প্রয়োজন। ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি ৬২০ হিজরিতে এবং ইবনে আল-জাওযি ৫৯৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন—অর্থাৎ তাঁরা ইবনে তাইমিয়্যাহর জন্মের বহু আগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ফলে তাঁদেরকে ইবনে তাইমিয়্যাহর সমসাময়িক বা তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি রদকারী হিসেবে উপস্থাপন করা ঐতিহাসিকভাবে সম্ভব নয়। ইবনে তাইমিয়্যাহর সমালোচনার ইতিহাসে যাঁদের নাম ব্যবহার করা হবে, তাঁদের অবশ্যই সময়কাল ও গ্রন্থের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রায় পাঁচ শতাব্দী পরে মধ্য আরবের নজদ অঞ্চলে আবির্ভূত হন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব (১৭০৩–১৭৯২)। তিনি তাওহিদকে কেন্দ্র করে একটি কঠোর সংস্কার আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং কবর, মাজার, তাওয়াসসুল, মানতসহ বিভিন্ন প্রচলিত ধর্মীয় আচরণের সমালোচনা করেন। তাঁর অনুসারীরা এসব কর্মকাণ্ডের অনেকগুলোকে শিরক বা বিদআতের সঙ্গে যুক্ত করতেন। এই ধর্মীয় আন্দোলন পরবর্তীকালে “ওয়াহহাবি আন্দোলন” নামে পরিচিতি লাভ করে, যদিও অনুসারীরা নিজেদেরকে সাধারণত তাওহিদ ও সুন্নাহর সংস্কারক হিসেবে উপস্থাপন করতেন।
এই আন্দোলনের রাজনৈতিক মোড় আসে দিরিয়াহর শাসক মুহাম্মদ ইবনে সৌদের সঙ্গে ইবনে আবদুল ওয়াহহাবের সমঝোতার মাধ্যমে। ১৭৪৪ সালের কাছাকাছি গড়ে ওঠা এই জোটে ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক-সামরিক শক্তি একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক গবেষণায় এই সমঝোতাকে প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। ধর্মীয় সংস্কারের আহ্বান রাজনৈতিক শাসনের বৈধতা জোগায়, আর সৌদি শাসকের সামরিক ও প্রশাসনিক শক্তি আন্দোলনের বিস্তারের সুযোগ তৈরি করে।
এরপর মধ্য আরবে দ্রুত পরিবর্তন শুরু হয়। দিরিয়াহকে কেন্দ্র করে সৌদি বাহিনী বিভিন্ন গোত্র ও অঞ্চলের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। আন্দোলনের সামরিক চরিত্রও ক্রমে শক্তিশালী হয়। যেসব স্থানীয় শাসক ও ধর্মীয় গোষ্ঠী নতুন মতাদর্শ গ্রহণ করেনি, তাদের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি হয়। এই বিস্তার শেষ পর্যন্ত উসমানীয় সাম্রাজ্যের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে পরিণত হয়।
এই সময়ের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল ১৮০২ সালের কারবালা অভিযান। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, দিরিয়াহ-ভিত্তিক সৌদি বাহিনী কারবালায় আক্রমণ চালায় এবং ইমাম হুসাইন ইবনে আলীর মাজার ও শহরের সম্পদ লুণ্ঠন করে। নিহতের সংখ্যা নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে; কিছু বর্ণনায় কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়। মাজারের গম্বুজ ও সম্পদ ধ্বংস বা লুণ্ঠনের কথাও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে এসেছে। ফলে কারবালার অভিযান আজও সৌদি-ওয়াহহাবি আন্দোলনের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত সামরিক অধ্যায়গুলোর একটি।
প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের বিস্তার শেষ পর্যন্ত উসমানীয় সাম্রাজ্যের সামরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। উসমানীয় কেন্দ্রীয় শক্তি মিশরের গভর্নর মুহাম্মদ আলী পাশার বাহিনীকে সৌদি শক্তি দমনের দায়িত্ব দেয়। তাঁর পুত্র ইব্রাহিম পাশার নেতৃত্বে মিশরীয়-উসমানীয় বাহিনী দিরিয়াহ অবরোধ করে এবং ১৮১৮ সালে প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের পতন ঘটে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে, যদিও সৌদি পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় আন্দোলন পুরোপুরি বিলীন হয়নি।
এরপর আসে দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রের যুগ। ১৮২০-এর দশকে সৌদি পরিবার আবার রিয়াদকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা পুনর্গঠন করে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ উত্তরাধিকার-সংঘাত, গোত্রীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৮৯১ সালে আল রশিদ পরিবার সৌদদের পরাজিত করে এবং ইবনে সৌদ পরিবারকে কুয়েতের দিকে নির্বাসিত হতে হয়।
কিন্তু ইতিহাস এখানেই থেমে থাকেনি।
আবদুল আজিজ ইবনে আবদুর রহমান আল সৌদ—যিনি ইতিহাসে ইবনে সৌদ নামে পরিচিত—১৯০২ সালে মাত্র কয়েকজন অনুগত যোদ্ধাকে নিয়ে রিয়াদ পুনর্দখল করেন। এই ঘটনাই তৃতীয় সৌদি রাষ্ট্রের উত্থানের সূচনা করে। পরবর্তী তিন দশকে তিনি ধাপে ধাপে নজদ, আল-আহসা, উত্তর ও দক্ষিণ আরবের বিভিন্ন অঞ্চল এবং শেষ পর্যন্ত হিজাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। সৌদি রাষ্ট্রের নিজস্ব সরকারি ইতিহাসও ১৯০২ সালের রিয়াদ পুনর্দখলকে আধুনিক সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে।
ইবনে সৌদের সামরিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ইখওয়ান—ধর্মীয়ভাবে অনুপ্রাণিত ও মরু-গোত্রভিত্তিক একটি যোদ্ধা বাহিনী। এই বাহিনী সৌদি ভূখণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯১৩ সালে আল-আহসা দখলের মাধ্যমে ইবনে সৌদ পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ১৯২০-এর দশকে তাঁর বাহিনী হিজাজের দিকে অগ্রসর হয়। ১৯২৪–২৫ সালে মক্কা ও মদিনাসহ হিজাজ সৌদি নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯২৬ সালে ইবনে সৌদ নিজেকে হিজাজের রাজা ঘোষণা করেন এবং পরের বছর নজদের রাজা হিসেবে তাঁর অবস্থান আরও সুসংহত হয়।
তবে এই বিজয়কে কেবল ধর্মীয় আন্দোলনের ফল হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। এখানে গোত্রীয় আনুগত্য, সামরিক সংগঠন, রাজনৈতিক সমঝোতা, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজবংশের দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি—সবকিছু একসঙ্গে কাজ করেছিল।
ব্রিটেনের ভূমিকাও এই পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৯১৫ সালের দারিন চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন ইবনে সৌদের শাসনকে স্বীকৃতি দেয় এবং অর্থ ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করে। পরবর্তীকালে ১৯২৭ সালের জেদ্দা চুক্তিতে ব্রিটেন ইবনে সৌদের হিজাজ ও নজদের স্বাধীন শাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। একই সময়ে ইবনে সৌদ ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর বাহিনীর অভিযান সীমিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সূক্ষ্মতা রয়েছে। “ব্রিটেন সৌদ পরিবারকে দিয়ে পুরো আরব দখল করিয়ে দিয়েছিল”—এমন সরল বক্তব্য ইতিহাসের জটিল বাস্তবতাকে পুরোপুরি তুলে ধরে না। ইবনে সৌদের নিজস্ব সামরিক শক্তি, ইখওয়ান, গোত্রীয় জোট, প্রতিদ্বন্দ্বী আল রশিদ ও হাশেমি শক্তির সঙ্গে সংঘাত এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি তাঁর সাফল্যের প্রধান উপাদান ছিল। একই সঙ্গে ব্রিটিশ স্বীকৃতি, অর্থ ও অস্ত্র এবং সীমান্ত-রাজনীতিও তাঁর ক্ষমতা সংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইবনে সৌদের সঙ্গে ইখওয়ানের সম্পর্কও শেষ পর্যন্ত সংঘাতে রূপ নেয়। ইখওয়ানের নেতারা সৌদি ভূখণ্ডের বাইরে—ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ইরাক, ট্রান্সজর্ডান ও কুয়েতের দিকে—অভিযান চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। ইবনে সৌদ বুঝতে পারেন যে এ ধরনের অভিযান ব্রিটেনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত ডেকে আনতে পারে। ফলে তিনি ইখওয়ানকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯২৯ সালের সাবিল্লার যুদ্ধে ইখওয়ান বিদ্রোহ দমন করা হয়। অর্থাৎ সৌদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় যে ধর্মীয়-সামরিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, রাষ্ট্র গঠনের পর সেই শক্তিকেই রাজপরিবার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নজদ ও হিজাজসহ ইবনে সৌদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোকে একত্র করে আনুষ্ঠানিকভাবে “কিংডম অব সৌদি আরব” প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের সামরিক অভিযান, রাজনৈতিক সমঝোতা ও ক্ষমতা সংহতকরণ একটি আধুনিক রাষ্ট্রের কাঠামো লাভ করে।
এরপর সৌদি রাষ্ট্রের ইতিহাসে আসে আরেকটি যুগান্তকারী অধ্যায়—তেল।
১৯৩৮ সালে সৌদি আরবে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল আবিষ্কারের পর দেশটির অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এবং যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ও বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের মধ্যে ইউএসএস কুইন্সি জাহাজে ঐতিহাসিক বৈঠক হয়। এই সাক্ষাৎকে পরবর্তী মার্কিন-সৌদি কৌশলগত সম্পর্কের প্রতীকী সূচনা হিসেবে দেখা হয়। তেল, নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি—এই তিনটি বিষয় ধীরে ধীরে দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
তবে বহুল প্রচলিত “কুইন্সি চুক্তি—আমেরিকা সৌদি রাজপরিবারকে রক্ষা করবে, বিনিময়ে সৌদি আরব একচ্ছত্রভাবে আমেরিকাকে তেল দেবে”—এই বাক্যটি ঐতিহাসিকভাবে অতিরিক্ত সরলীকৃত। ১৯৪৫ সালের বৈঠকে নিরাপত্তা ও তেল নিয়ে কৌশলগত বোঝাপড়া তৈরি হলেও পরবর্তীকালের মার্কিন-সৌদি সম্পর্ক ছিল বহু চুক্তি, তেল কোম্পানি, সামরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর সমন্বিত ফল। এটিকে একক লিখিত “তেল বনাম নিরাপত্তা” চুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা ইতিহাসের পূর্ণ চিত্র নয়।
এই দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে একটি বহুল আলোচিত হাদিসও প্রায়ই যুক্ত করা হয়। সহিহ বুখারির ১০৩৭ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে রাসুলুল্লাহ ﷺ শাম ও ইয়ামেনের জন্য বরকতের দোয়া করেন এবং নজদের প্রসঙ্গে সেখানে ভূমিকম্প ও ফিতনার কথা উল্লেখ করেন এবং “শয়তানের শিং” উদয়ের কথা বলেন। হাদিসটির মূল বর্ণনা সহিহ বুখারিতে বিদ্যমান।
তবে এই হাদিসকে সরাসরি অষ্টাদশ শতকের মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবের ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে ঘোষণা করা একটি ব্যাখ্যাগত দাবি, সর্বসম্মত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নয়। “নজদ” শব্দের ভৌগোলিক অর্থ ও সপ্তম শতকের আরব ভূগোল নিয়ে প্রাচীন ও পরবর্তী ব্যাখ্যাকারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাই গবেষণামূলক প্রতিবেদনে হাদিসটি উল্লেখ করা যেতে পারে, কিন্তু “রাসুলুল্লাহ ﷺ নিশ্চিতভাবে ইবনে আবদুল ওয়াহহাবকেই শয়তানের শিং বলেছেন”—এমন সিদ্ধান্তকে নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
সৌদি রাষ্ট্রের ইতিহাস তাই কেবল একটি ধর্মীয় মতবাদের ইতিহাস নয়; এটি একই সঙ্গে ধর্ম, গোত্র, সামরিক শক্তি, রাজবংশ, উসমানীয় সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, তেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ইতিহাস। অষ্টাদশ শতকের দিরিয়াহ জোট থেকে ১৮১৮ সালের পতন, দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রের পুনরুত্থান ও পতন, ১৯০২ সালের রিয়াদ পুনর্দখল, ১৯২০-এর দশকে হিজাজ বিজয় এবং ১৯৩২ সালে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠা—প্রতিটি পর্যায়েই ধর্মীয় আদর্শ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা পাশাপাশি কাজ করেছে।
এই কারণেই সৌদি রাষ্ট্রের জন্মকে শুধু “ওয়াহহাবি আন্দোলনের বিজয়” কিংবা শুধু “ব্রিটিশদের তৈরি রাষ্ট্র”—কোনো একটি বাক্যে ব্যাখ্যা করলে ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বরং ইতিহাসের দলিলগুলো দেখায়, এটি ছিল একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক-সামরিক রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়া, যেখানে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবের ধর্মীয় আন্দোলন এবং আল সৌদ পরিবারের রাজনৈতিক শক্তি একে অপরকে শক্তিশালী করেছিল; পরবর্তীতে ব্রিটিশ কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ সেই রাষ্ট্রের বিস্তারকে সহায়তা করে এবং তেল আবিষ্কারের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গড়ে ওঠা নিরাপত্তা-অর্থনৈতিক সম্পর্ক সৌদি রাজতন্ত্রকে নতুন বৈশ্বিক শক্তির কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে।
আজকের সৌদি আরব সেই বহুস্তরীয় ইতিহাসের ফল—একদিকে পবিত্র মক্কা-মদিনার নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি অর্থনীতি; একদিকে কঠোর ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, অন্যদিকে আধুনিক রাষ্ট্র, রাজতন্ত্র ও বৈশ্বিক কূটনীতির বাস্তবতা। আর এই কারণেই সালাফি বা ওয়াহহাবি আন্দোলনের ইতিহাস এবং সৌদি রাষ্ট্রের উত্থান নিয়ে আলোচনা শুধু ধর্মীয় বিতর্ক নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক ভূরাজনীতি বোঝারও একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।

You Might Also Like

“প্রিয় নবীজি রাসূলে পাক (ﷺ) নূরের সৃষ্টি”

The Mercy of the Prophet ﷺ and Love for Him in the Life of a Believer | رحمةُ النبي (ﷺ) ومحبته في حياة المؤمن

আকিদা العقيدة. – অর্থ ও গুরুত্ব

معنى العقيدة وأهميتها

Hazrat Hudhayfah (RA): The keeper of the Prophet’s (PBUH) secrets and a knowledgeable companion in times of trial

Sign Up For Daily Newsletter

Be keep up! Get the latest breaking news delivered straight to your inbox.
[mc4wp_form]
By signing up, you agree to our Terms of Use and acknowledge the data practices in our Privacy Policy. You may unsubscribe at any time.
Share This Article
Facebook Copy Link Print
Share
Previous Article ‘Situation is very dangerous’ – Türkiye fears Russia using nuclear weapons
Next Article বিশ্ব জাকের মঞ্জিল: ছোট্ট জাকের ক্যাম্প থেকে বৃহৎ আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানে উত্তরণের ইতিহাস

Stay Connected

248.1kLike
69.1kFollow
134kPin
54.3kFollow
banner banner
Create an Amazing Newspaper
Discover thousands of options, easy to customize layouts, one-click to import demo and much more.
Learn More

নতুন ব্লগ পড়ুন

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল: ছোট্ট জাকের ক্যাম্প থেকে বৃহৎ আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানে উত্তরণের ইতিহাস
সূফিবাদ
‘Situation is very dangerous’ – Türkiye fears Russia using nuclear weapons
বিশ্ব
পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে রাশিয়া, সতর্ক করলেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক
ইরানের ভয়ে খাবারের কার্টে লুকিয়ে সামরিক বিমানে উঠে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক

You Might also Like

আকীদা

20,553 pilgrims arrive in Saudi Arabia for Hajj, one dies

Rezaul Karim
Rezaul Karim
2 Min Read
আকীদা

“সুন্নি: ইতিহাস,মতবাদ ও শ্রেণী বিভাগ “

Rezaul Karim
Rezaul Karim
1 Min Read
আকীদা

রাসূল ﷺ আমাদের ভালোবাসতেন, ভাবতেন আমাদের নিয়ে, কাঁদতেন আমাদের বিরহে; আমাদেরও কি উচিত নয় তাঁকে ভালোবাসা!

Rezaul Karim
Rezaul Karim
4 Min Read
AlMujaddid 24AlMujaddid 24
Follow US
© ২০২৫ Al-Mujaddid 24 | সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Welcome Back!

Sign in to your account

Username or Email Address
Password

Lost your password?

Not a member? Sign Up