যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েলের আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে আরও চার বছরের জন্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ফলকার তুর্ক। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটে তিনি নতুন মেয়াদের অনুমোদন পান। ২০২২ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর এবার পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে পদটি প্রতিষ্ঠার পর টানা দুই পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম মানবাধিকার প্রধান হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি। অস্ট্রিয়ার আইনজীবী ফলকার তুর্ক ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘে যোগ দেন এবং শুরুতে ইউএনএইচসিআরে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়া, কসোভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং কঙ্গোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরেও উচ্চপদে কাজ করেন। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের অধীনে স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেশনবিষয়ক সহকারী মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মানবাধিকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, আফগানিস্তান, সুদান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও নিকারাগুয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুর্ক। সাধারণ পরিষদে গুতেরেসের সুপারিশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত ভোটে তার পক্ষে ১৪৪টি দেশ সমর্থন জানায়, বিপক্ষে ভোট পড়ে ১০টি এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্র ভোট স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও তা গৃহীত হয়নি। একইভাবে রাশিয়া তার মেয়াদ কেবল চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত সীমিত রাখার প্রস্তাব দিলেও সেটিও প্রত্যাখ্যাত হয়। তুর্কের বিভিন্ন অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই তার সমালোচনা করে আসছে। ইসরায়েলের অভিযোগ, তার নেতৃত্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ৭ অক্টোবরের হামলা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তহবিল ব্যবহারে প্রশ্ন উঠেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও তাকে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তিনি আদর্শিক রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এদিকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সমালোচকদের মতে, নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা উচিত ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্তকে জাতিসংঘের প্রশাসনিক দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, আর ইসরায়েল একে নৈতিক ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছে। তবে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, সব নিয়মকানুন অনুসরণ করে সদস্য রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতেই ফলকার তুর্কের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
