যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে চলমান একাধিক উচ্চপ্রোফাইল স্থাপত্য ও সৌন্দর্যায়ন প্রকল্প নিয়ে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কার, হোয়াইট হাউসের পূর্বাংশের পরিবর্তে বহুমূল্যের একটি নতুন বলরুম নির্মাণ এবং ন্যাশনাল মলের কাছে প্যারিসের আর্ক দে ত্রিয়ঁফের আদলে বিশাল একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ—এই তিন প্রকল্পকে একত্রে বিবেচনা করে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ শতাংশ বলেছেন তারা এসব উদ্যোগে অসন্তুষ্ট বা ক্ষুব্ধ, যেখানে মাত্র ৩১ শতাংশ ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে; রিপাবলিকান সমর্থকদের বড় অংশ প্রকল্পগুলোর পক্ষে অবস্থান নিলেও ডেমোক্র্যাটদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ এগুলোর বিরোধিতা করেছেন। জরিপে আরও দেখা যায়, মাত্র ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন রাজধানীকে আরও সুন্দর করে তোলাই ট্রাম্পের মূল উদ্দেশ্য, আর ৫১ শতাংশের ধারণা এর পেছনে অন্য কোনো লক্ষ্য রয়েছে। এই গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মনে করেন প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা বা রাজধানীতে নিজের স্থায়ী ছাপ রেখে যাওয়া। বিশেষ করে নতুন বলরুম প্রকল্পটি সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুরুতে এর ব্যয় ৪০ কোটি ডলার বলা হলেও পরে তা বেড়ে ৬০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ট্রাম্প দাবি করেছেন প্রকল্পটির অর্থ পুরোপুরি ব্যক্তিগত অনুদান থেকে আসবে, তবে সরকারি নথির উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ সরকারি বাজেট থেকেই বহন করা হতে পারে। একই সময়ে লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কারও সমালোচনার মুখে পড়েছে, কারণ সংস্কারের অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন রঙের আবরণ উঠে যাওয়া এবং শৈবালের বিস্তারের মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর প্রতীকী স্থাপনাগুলোতে এই ধরনের ব্যয়বহুল পরিবর্তন কেবল নান্দনিকতার প্রশ্ন নয়, বরং সরকারি অর্থের ব্যবহার, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক প্রতীকবাদের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে সামনে এনে দিয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের এসব প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সমর্থকরা এগুলোকে রাজধানীর আধুনিকায়নের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আর সমালোচকরা এগুলোকে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস হিসেবে বর্ণনা করছেন।
