ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বিভিন্ন নেভিগেশনাল-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী পণ্যবাহী এবং জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমানগুলো এখনো মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নিয়মিত যাতায়াত করছে; বিভিন্ন ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে মার্কিন বিমান বাহিনীর লজিস্টিক ও আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা মূলত তাদের কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখা এবং যেকোনো অভিযানের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকারই ইঙ্গিত দেয়; এর পাশাপাশি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর কমান্ডার নিশ্চিত করেছেন যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ওপর সব ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, তিনি দাবি করেছেন মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছে এবং তার মতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, নৌবাহিনী ও ড্রোন সক্ষমতার পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে; সেন্টকম কমান্ডার আরও বলেন ইরানের বড় আকারের সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং দেশের সীমানার বাইরে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, তিনি এই পরিস্থিতিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের জন্য অন্যতম বড় সামরিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন; তিনি উল্লেখ করেন মার্কিন বাহিনী এ পর্যন্ত ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ১৩ হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে এবং এই অঞ্চলে উচ্চ পর্যায়ের যুদ্ধপ্রস্তুতি বজায় রেখেছে; মার্কিন সামরিক বাহিনী জোর দিয়ে বলেছে তাদের সেনারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত, তারা তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা প্রদান এবং শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখার বিষয়টি অব্যাহত রেখেছে; এই সামরিক তৎপরতা এমন এক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যখন একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে এবং মূলত সংঘাত আবারও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটেই এই ধরনের সামরিক গতিবিধি অব্যাহত রয়েছে।
