ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের উদ্দেশে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ওই ভাষণে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা সহজ নয়, তবে তাঁর নেতৃত্ব ও উপস্থিতি এখনও জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভাষণে পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ঘিরে জনপরিসরে যেসব বক্তব্য, ব্যাখ্যা বা চিত্র তুলে ধরা হয়, তার অনেকগুলোই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি যে ব্যক্তিত্বকে দেখেছেন, তা নৈতিকতা, যুক্তিবোধ, ধৈর্য এবং বিনয়ের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরে। প্রেসিডেন্টের ভাষায়, খোলামেলা আলোচনা এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর মাধ্যমেই ভুল বোঝাবুঝি দূর করা সম্ভব।
পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি একাধিকবার ব্যক্তিগত ও সরকারি বৈঠকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার সামনে তুলে ধরেছেন এবং সব সময়ই তিনি যুক্তিসঙ্গত, ধৈর্যশীল ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। তাঁর মতে, যেসব বক্তব্য মাঝে মাঝে সর্বোচ্চ নেতার নামে প্রচারিত হয়, সেগুলোর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মিল নেই। তিনি বলেন, বাস্তবে যে ব্যক্তিত্বকে তিনি দেখেছেন এবং জনসমক্ষে যে চিত্র তুলে ধরা হয়, এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি সরকারি অবস্থানকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠী সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যা জাতীয় ঐক্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সংক্রান্ত সর্বোচ্চ নেতার বার্তাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে কেন্দ্র করেও তিনি সতর্কবার্তা দেন। পেজেশকিয়ানের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি ওই বার্তাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে মতবিরোধ ও বিভক্তি উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি জনগণকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন এবং জাতীয় সংহতির ওপর জোর দেওয়া ইরানের রাজনৈতিক বার্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ভাষণে উত্থাপিত কয়েকটি দাবি—বিশেষ করে সর্বোচ্চ নেতাকে ঘিরে প্রচারিত বক্তব্য ও বিভাজনের প্রচেষ্টার অভিযোগ—স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সর্বোচ্চ নেতাকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগ, জনগণকে সতর্ক করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
