ওয়াশিংটন/কারাকাস—যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ওয়াশিংটন থেকেই ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকি করতে দেখা যাচ্ছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সম্পদ এবং কূটনৈতিক সমন্বয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিষয়টি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে এবং নীতিগত বহু সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই নেওয়া হচ্ছে। মার্কো রুবিও প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা এবং পরবর্তী সময়ে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক রূপান্তরের পথ তৈরি করা। তবে সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থায় ভেনেজুয়েলার স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এটি দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত মার্কিন প্রভাবের ইঙ্গিত বহন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং লাতিন আমেরিকায় ভূরাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার কৌশলই ওয়াশিংটনের এই সক্রিয় ভূমিকার অন্যতম কারণ। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, একটি কার্যকর ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান কেবল ভেনেজুয়েলার জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছ নির্বাচন এবং জাতীয় ঐকমত্যের মাধ্যমেই সম্ভব। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন, কারণ ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো শুধু দেশটির নয়, সমগ্র লাতিন আমেরিকার কৌশলগত ভারসাম্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
