আফ্রিকার এক শহর থেকে আরেক শহরে সরাসরি আকাশপথে যাতায়াত এখনো সহজ নয়, ফলে অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে লন্ডন, প্যারিস বা দুবাই হয়ে ঘুরে যেতে হয়, তবে ইথিওপিয়া এই পরিস্থিতি বদলাতে রাজধানী আদ্দিস আবাবা-এর কাছাকাছি বিশফতু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে একটি বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছে যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২.৫ বিলিয়ন ডলার এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী এটিকে আফ্রিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিমান চলাচল অবকাঠামো উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন; ২০৩০ সালের মধ্যে চালু করার লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণাধীন এই বিমানবন্দরটি প্রথম ধাপে বছরে ৬ কোটি যাত্রী পরিবহন করতে পারবে এবং পরে তা বাড়িয়ে ১১ কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে যা বর্তমান বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর সক্ষমতার কাছাকাছি বা বেশি হতে পারে; প্রকল্পটির নেতৃত্বে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, কারণ তাদের প্রধান কেন্দ্র বোলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইতোমধ্যেই প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছে গেছে এবং সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত, ফলে নতুন এই হাব মূলত ট্রানজিট যাত্রী ও কার্গো পরিবহন বাড়ানোর জন্য পরিকল্পিত, যা বছরে কয়েক মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন সক্ষমতা তৈরি করে আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়া-এর কার্যকারিতা আরও জোরদার করতে পারে; আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস, এই বিমানবন্দরের নকশা করছে যেখানে গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি থেকে অনুপ্রাণিত আধুনিক স্থাপত্য, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস, উন্মুক্ত আঙিনা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে যাতে যাত্রীরা ট্রানজিটে থেকেও ইথিওপিয়ার সংস্কৃতি ও প্রকৃতির অনুভূতি পেতে পারে; তবে এত বড় প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে, কারণ ভূমি অধিগ্রহণের ফলে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যদিও কর্তৃপক্ষ পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি করছে; একই সময়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও বিমানবন্দর উন্নয়নের প্রতিযোগিতা জোরদার হয়েছে, যেমন বুগেসেরা, ওয়াগাদুগু-ডনসিনসহ কায়রো, নাইরোবি এবং কাসাব্লাঙ্কা-এর প্রকল্পগুলো, তবে বিশ্লেষকদের মতে এই নতুন মেগা বিমানবন্দর আফ্রিকার আকাশপথে সংযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও এর পূর্ণ সুফল পেতে হলে অবকাঠামোর পাশাপাশি নীতিগত সমন্বয় যেমন সিঙ্গেল আফ্রিকান এয়ার ট্রান্সপোর্ট মার্কেট-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, নচেৎ শুধু বড় বিমানবন্দর নির্মাণ করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না।
