জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একাধিক মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সিবিএস নিউজ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে। ৮ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর রাতের হামলায় একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ যুদ্ধবিমান সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একটি ডানা হারায় এবং প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হালকা ক্ষতির শিকার হয়; ক্ষতিগ্রস্ত এফ-১৫গুলোর কয়েকটি পরে আবার কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন ও জর্ডানীয় বাহিনী হামলা প্রতিহত করতে ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশেই প্রতিহত করা হয় এবং বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। হামলায় মার্কিন সেনাদের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়। ইরানের হামলাটি আসে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করার পর, যা মার্কিন বাহিনী ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন নৌযানের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে। মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি, যা আল-আজরাক ঘাঁটি নামেও পরিচিত, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং সেখানে মার্কিন সামরিক বিমান ও সেনা মোতায়েন রয়েছে। জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কারণে দেশটির একাধিক সামরিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর প্রবেশাধিকার রয়েছে। এই হামলা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং জর্ডানকে সরাসরি সামরিক উত্তেজনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করেছে। সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে; নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
