আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উসমানীয় আমলের ঐতিহাসিক হেজাজ রেলওয়ে পুনরুজ্জীবিত করতে তুরস্ক ও সৌদি আরব নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের পরিবহন মন্ত্রণালয় রেলওয়ে সংযোগ ও লজিস্টিক সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা স্মারক (এম ও ইউ ) স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য তুরস্ক, সিরিয়া, জর্ডান এবং সৌদি আরবকে একটি আধুনিক রেল করিডোরের মাধ্যমে সংযুক্ত করা। পরিকল্পনাটি সফল হলে ঐতিহাসিক হেজাজ রেলওয়ের আধুনিক সংস্করণ ইউরোপ ও আরব উপদ্বীপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথে পরিণত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প শুধু একটি রেললাইন নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন, ধর্মীয় পর্যটন এবং আঞ্চলিক সংযোগের নতুন ভিত্তি হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপ থেকে তুরস্ক হয়ে সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরব পর্যন্ত পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং ব্যয়সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্যও এটি একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
হেজাজ রেলওয়ে মূলত উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ খানের উদ্যোগে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নির্মিত হয়েছিল। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দামেস্ক থেকে মদিনা পর্যন্ত মুসলিম তীর্থযাত্রীদের যাত্রা সহজ করা এবং সাম্রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ শক্তিশালী করা। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ সমর্থিত অভিযানে রেলপথের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে এটি আর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডানের বিদ্যমান ও ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পুনর্গঠন করা হবে, এরপর তা সৌদি আরবের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই করিডোরকে উপসাগরীয় অন্যান্য দেশ পর্যন্ত সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও অর্থায়ন, নিরাপত্তা, সিরিয়ার অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং শতাধিক বছর আগে সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ খানের যে কৌশলগত স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছিল, তার আধুনিক বাস্তবায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটতে পারে।
ইউরোপ থেকে মদিনা পর্যন্ত রেল সংযোগের স্বপ্ন, নতুন পরিকল্পনায় তুরস্ক ও সৌদি আরব
