রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বিষয়ক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে দুই দেশ তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, বহুমুখী সহযোগিতা এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ উপলক্ষে পাকিস্তরে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলবার্ট পি. খোরেভ এবং চীনের রাষ্ট্রদূত জিয়াং জাইদং যৌথভাবে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন, যেখানে তাঁরা উল্লেখ করেন যে গত পঁচিশ বছরে রাশিয়া–চীন সম্পর্ক পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ঘনিষ্ঠ অবস্থানের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়, দুই দেশের রাজনৈতিক পারস্পরিক বিশ্বাসই তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি এবং এই অংশীদারত্ব বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাশিয়া ও চীন একটি সমতাভিত্তিক, সুশৃঙ্খল এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন কাঠামো এবং আরও ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে আসছে। নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘে রাশিয়া, চীন এবং পাকিস্তান প্রায়ই আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতার নীতির পক্ষে একযোগে অবস্থান গ্রহণ করে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতে তাদের নীতিগত সমন্বয় বজায় রাখে। দুই রাষ্ট্রদূতের মতে, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা রাশিয়া–চীন সম্পর্কের সর্বোচ্চ শক্তি এবং এই সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের মৌলিক নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার আওতায় উভয় দেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলা, অর্থনৈতিক ও মানবিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন সভ্যতা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে সংলাপ বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। নিবন্ধে আরও বলা হয়, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ এবং ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি বৃহত্তর ইউরেশীয় অংশীদারত্বের সমান্তরাল ও সমন্বিত বিকাশেও দুই দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বলা হয়, টানা তিন বছর ধরে রাশিয়া ও চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রয়েছে এবং তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা বিনিময়ের মাধ্যমেও দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে; ২০২৪–২০২৫ সালকে রাশিয়া–চীন সংস্কৃতি বর্ষ এবং ২০২৬–২০২৭ সালকে শিক্ষা বর্ষ হিসেবে উদযাপনকে এই মানবিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধের শেষাংশে দুই রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক আস্থা আরও গভীর করা, পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমন্বয় জোরদার এবং উভয় দেশের জনগণ ও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কল্যাণে অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
