যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের স্টারবেস উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, স্পেসএক্সের বিশাল স্টারশিপ মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। স্টারশিপের চতুর্দশ পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানকে মহাকাশযানটির উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবার প্রথমবারের মতো স্টারশিপকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ ঘণ্টার এই অভিযানে মহাকাশযানটির কক্ষপথে অবস্থান, মহাকাশে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা, ২৬টি নতুন প্রজন্মের যোগাযোগ উপগ্রহ স্থাপন এবং পরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বহু বছর ধরে পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বিস্ফোরণ, নকশা পরিবর্তন এবং প্রকৌশলগত সংশোধনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা স্টারশিপ কর্মসূচির জন্য এই উড্ডয়ন তাই আরেকটি সাধারণ পরীক্ষা নয়; এটি এমন একটি পর্যায়, যেখানে স্পেসএক্স তার সবচেয়ে বড় মহাকাশযানকে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সীমা পেরিয়ে বাস্তব কক্ষপথভিত্তিক কার্যক্রমের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
স্টারশিপকে শুধু একটি বিশাল রকেট হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য পুরোপুরি বোঝা যায় না। স্পেসএক্স এমন একটি মহাকাশ পরিবহন ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পৃথিবীর কক্ষপথে মানুষ ও পণ্য পাঠানোর পাশাপাশি চাঁদ এবং মঙ্গলের মতো দূরবর্তী স্থানে অভিযানের কাজ করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থার দুটি প্রধান অংশ রয়েছে। নিচের অংশটি সুপার হেভি উৎক্ষেপণযান এবং ওপরের অংশটি স্টারশিপ মহাকাশযান। উৎক্ষেপণের সময় সুপার হেভি বিপুল শক্তি দিয়ে পুরো যানটিকে মহাকাশের দিকে নিয়ে যায়। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর ওপরের মহাকাশযানটি আলাদা হয়ে নিজের যাত্রা চালিয়ে যায়। ভবিষ্যতে এই দুই অংশকেই পুনরায় ব্যবহার করার লক্ষ্য রয়েছে স্পেসএক্সের।
২৮ সেপ্টেম্বরের এই অভিযানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এবার স্টারশিপকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আগের পরীক্ষাগুলোতে উৎক্ষেপণ, পর্যায় বিচ্ছিন্নতা, ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পৃথিবীতে ফিরে আসার বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আরও দীর্ঘ ও জটিল একটি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্টারশিপ পৃথিবীর চারপাশে নির্ধারিত পথে চলবে এবং কয়েক ঘণ্টা মহাকাশে অবস্থান করবে। এই সময়ে মহাকাশযানের বিভিন্ন ব্যবস্থা কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক যোগাযোগ উপগ্রহ মহাকাশে স্থাপন করা। এর মাধ্যমে স্টারশিপ প্রথমবারের মতো বাস্তব কার্যকর উপগ্রহ বহন ও কক্ষপথে স্থাপনের সক্ষমতা পরীক্ষা করছে। উপগ্রহগুলো মহাকাশে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত অবস্থানে স্থাপিত হলে স্টারশিপের বিশাল বহনক্ষমতার একটি বাস্তব ব্যবহারও দেখা যাবে। ভবিষ্যতে বড় আকারের বহু উপগ্রহ একসঙ্গে মহাকাশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
স্টারলিংক যোগাযোগব্যবস্থা বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের উপগ্রহগুলো এই নেটওয়ার্কের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। একটি বড় মহাকাশযানের মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক বেশি ওজনের উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো সম্ভব হলে ভবিষ্যতে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে স্টারশিপকে নিয়মিতভাবে নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণযান হিসেবে প্রমাণ করতে হবে।
কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্টারশিপের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। মহাকাশ থেকে প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে ফেরার সময় মহাকাশযানের নিচের অংশ ভয়াবহ তাপের মুখোমুখি হয়। এই তাপ থেকে মহাকাশযানকে রক্ষা করার জন্য স্টারশিপের নিচে হাজার হাজার তাপরোধী পাত ব্যবহার করা হয়েছে। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় এসব পাতের ওপর প্রচণ্ড তাপ ও চাপ সৃষ্টি হয়। তাই স্টারশিপের ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য এই তাপরোধী ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নগুলো থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাপরোধী ব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাতগুলো কীভাবে আরও ভালোভাবে স্থির রাখা যায় এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় সৃষ্ট তাপ কীভাবে সামলানো যায়, তা নিয়ে স্পেসএক্সের প্রকৌশলীরা কাজ করেছেন। প্রতিটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন থেকে পাওয়া তথ্য পরবর্তী যান তৈরির সময় ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে কোনো পরীক্ষার ফল প্রত্যাশামতো না হলেও সেই তথ্য পরবর্তী নকশা উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে।
এই অভিযানে সুপার হেভি উৎক্ষেপণযানের গতিপথ এবং নিয়ন্ত্রিত অবতরণের প্রযুক্তিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওপরের স্টারশিপ থেকে আলাদা হওয়ার পর সুপার হেভিকে নির্ধারিত পথে পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এবারের পরিকল্পনায় বুস্টারটিকে উৎক্ষেপণস্থলে ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে সমুদ্রের নির্ধারিত এলাকায় নিয়ন্ত্রিতভাবে নামানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একইভাবে ওপরের স্টারশিপ মহাকাশযানও মিশন শেষে সমুদ্রে নিয়ন্ত্রিতভাবে নামবে।
সমুদ্রে নামানোর এই ব্যবস্থা পরীক্ষামূলক পর্যায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্টারশিপ এখনও উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং এর বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। মহাকাশযানটি কীভাবে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, কীভাবে গতি কমায় এবং কীভাবে নির্ধারিত এলাকায় নিয়ন্ত্রিতভাবে নামতে পারে, এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ভবিষ্যতে উৎক্ষেপণস্থলে ফিরে এসে অবতরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উন্নত করার ক্ষেত্রেও এই তথ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্টারশিপ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চাঁদে ফেরার পরিকল্পনারও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে আবার মানুষকে চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্পেসএক্সের বিশেষভাবে তৈরি একটি স্টারশিপকে চন্দ্র অবতরণযান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমান স্টারশিপের একটি পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহার করা হতে পারে।
চন্দ্র অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পৃথিবীর কক্ষপথে পরীক্ষা করা এবং পরে ধাপে ধাপে আরও জটিল অভিযানে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। চাঁদের দিকে যাত্রার ক্ষেত্রে শুধু একটি রকেট উৎক্ষেপণ করলেই হবে না। মহাকাশযানকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিচালনা, প্রয়োজনীয় সময়ে ইঞ্জিন চালনা, মহাকাশে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, অন্য মহাকাশযানের সঙ্গে সংযোগ এবং চন্দ্রপৃষ্ঠে নিরাপদ অবতরণের মতো একাধিক কঠিন ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।
নাসা ২০২৬ সালের জুনে আর্টেমিস তৃতীয় অভিযানের জন্য চারজন নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালে এই অভিযানের প্রস্তুতিতে পৃথিবীর কক্ষপথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে মহাকাশযানগুলোর পারস্পরিক সংযোগ ও সমন্বয় পরীক্ষা অন্যতম। স্পেসএক্সের তৈরি চন্দ্র অবতরণযানও এই ব্যবস্থার একটি অংশ। ফলে আগামী সময়ের স্টারশিপ পরীক্ষাগুলোর ফলাফল নাসার চন্দ্র অভিযানের প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
চাঁদে ফেরার ক্ষেত্রে নাসার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শুধু একবার মানুষকে চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে ভবিষ্যতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ানো এবং আরও দূরের মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা অর্জনও এই পরিকল্পনার অংশ। এ কারণে বড় ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান তৈরি করতে পারা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
স্টারশিপের অন্যতম বড় লক্ষ্য হলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান ব্যবস্থা তৈরি করা। স্পেসএক্স এর আগে ফ্যালকন-নাইন উৎক্ষেপণযানের মাধ্যমে উৎক্ষেপণের পর রকেটের মূল অংশ পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ব্যবহারের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। স্টারশিপের মাধ্যমে সেই ধারণাকে আরও বড় আকারে প্রয়োগ করার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে একই মহাকাশযান ও উৎক্ষেপণযানের অংশ বারবার মহাকাশে পাঠিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মহাকাশে মানুষ ও পণ্য পাঠানোর ব্যয় এবং সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তার আগে স্টারশিপকে ধারাবাহিকভাবে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ করতে হবে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে একটি মহাকাশযান ব্যর্থ হলে প্রকৌশলীরা সেই ব্যর্থতা থেকে তথ্য নিয়ে পরবর্তী যানটির নকশা পরিবর্তন করতে পারেন। কিন্তু নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং বিশেষ করে নভোচারী বহনকারী অভিযানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার মান অনেক বেশি হতে হবে।
এই কারণেই ফ্লাইট ১৪-এর সাফল্য শুধু উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিট দিয়ে বিচার করা যাবে না। স্টারশিপ কক্ষপথে কতটা স্থিতিশীলভাবে কাজ করে, ২৬টি উপগ্রহ নির্ধারিতভাবে স্থাপন করতে পারে কি না, মহাকাশে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন চালনা ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারে কি না, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় তাপরোধী ব্যবস্থা কেমন কাজ করে এবং শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে নিয়ন্ত্রিতভাবে নামতে পারে কি না, প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ।
স্টারশিপের এই পরীক্ষা একই সঙ্গে স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের চন্দ্র অভিযানের প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত। স্টারশিপ যদি ধারাবাহিকভাবে কক্ষপথে যেতে এবং নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এর ওপর নির্ভর করে আরও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। আর যদি কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে সেই তথ্য পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে সংশোধনের জন্য ব্যবহার করা হবে।
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে বড় কোনো প্রযুক্তি সাধারণত একটি মাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্তুত হয় না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘ সময়ের গবেষণা, অসংখ্য পরীক্ষা, ব্যর্থতা, নকশা পরিবর্তন এবং নতুন করে পরীক্ষা। স্টারশিপ কর্মসূচিতেও সেই ধারাই দেখা যাচ্ছে। স্পেসএক্সের প্রকৌশলীরা প্রতিটি উড্ডয়ন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী যান তৈরি করছেন। ফলে স্টারশিপের প্রতিটি অভিযান ভবিষ্যতের মহাকাশযানের উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
এই পরীক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্পেসএক্সের মহাকাশযান এবং স্টারলিংক যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে সম্পর্ক। স্টারলিংক নেটওয়ার্কের জন্য ক্রমাগত নতুন উপগ্রহ প্রয়োজন। বড় আকারের স্টারশিপ যদি ভবিষ্যতে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক উপগ্রহ মহাকাশে নিয়ে যেতে পারে, তাহলে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অনেক বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্টারশিপের নিজস্ব উন্নয়নও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে সামনে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পৃথিবীর কক্ষপথে একটি মহাকাশযান পাঠানো এবং সেটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যেমন কঠিন, চাঁদের অভিযানের জন্য সেই প্রযুক্তিকে নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করা আরও জটিল। চন্দ্র অভিযানে মহাকাশযানকে দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকতে হবে এবং নভোচারীদের নিরাপদে চাঁদের পৃষ্ঠে নিয়ে গিয়ে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই বর্তমান পরীক্ষাগুলোকে ভবিষ্যতের সেই বড় অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
২৮ সেপ্টেম্বরের এই উড্ডয়ন তাই শুধু একটি রকেট উৎক্ষেপণের ঘটনা নয়। এটি একটি দীর্ঘ প্রযুক্তিগত কর্মসূচির নতুন ধাপ। কক্ষপথে প্রবেশ, উপগ্রহ স্থাপন, মহাকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থান, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ এবং সমুদ্রে নিয়ন্ত্রিত অবতরণের মাধ্যমে স্পেসএক্স একসঙ্গে একাধিক প্রযুক্তি পরীক্ষা করছে। এর প্রতিটি ফলাফল ভবিষ্যতের স্টারশিপের নকশা ও পরিচালনায় প্রভাব ফেলবে।
শেষ পর্যন্ত স্টারশিপ কতটা সফলভাবে মানুষের মহাকাশযাত্রার নতুন যুগের ভিত্তি তৈরি করতে পারবে, তা নির্ধারণ হবে আগামী কয়েক বছরের পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে। চাঁদে নভোচারী পাঠানোর আগে পৃথিবীর কক্ষপথে স্টারশিপের নির্ভরযোগ্যতা, মহাকাশে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পুনঃপ্রবেশ এবং পুনর্ব্যবহারের সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে প্রমাণ করতে হবে। ২৮ সেপ্টেম্বরের অভিযান সেই দীর্ঘ পরীক্ষার একটি বড় অধ্যায়। কক্ষপথে পৌঁছানোর পর এখন নজর থাকবে মিশনের পরবর্তী ধাপগুলোর দিকে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া তথ্য স্পেসএক্সের পরবর্তী মহাকাশযান উন্নয়নের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কক্ষপথে স্টারশিপ, চাঁদের পথে নতুন পরীক্ষা: স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক অভিযান
