মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সংঘাতের ১২১তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ আবার শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হলে ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমান বাহিনী ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালায়। হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র, নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি এবং সমুদ্রে মাইন পেতে ব্যবহৃত সামরিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলেও জানানো হয়। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম। এর আগে আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধবিরতি কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
