যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতার সরকারের উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমান, যা ব্যাপক নিরাপত্তা সংস্কারের পর এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে, তাতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক সফর সম্পন্ন করেছেন। লাল, সাদা ও নীল রঙে সজ্জিত এই বিশেষ বিমানযোগে তিনি নর্থ ডাকোটায় থিওডোর রুজভেল্ট প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা হন। যাত্রার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বিমানটিকে বিশ্বের ইতিহাসে নির্মিত সর্বশ্রেষ্ঠ বাণিজ্যিক উড়োজাহাজগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেন। তবে এই সফরের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিমানটির উৎস এবং এটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত। প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই বিলাসবহুল বিমানটি কাতারের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, যা শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন, নীতিনির্ধারক মহল এবং নৈতিকতা বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। সমালোচকদের মতে, কোনো বিদেশি সরকারের কাছ থেকে এত উচ্চমূল্যের উপহার গ্রহণ ক্ষমতার স্বচ্ছতা, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এবং সম্ভাব্য বিদেশি প্রভাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। আরও বিতর্কের বিষয় হলো, প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর বিমানটি তাঁর প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে হস্তান্তর করা হতে পারে, ফলে ভবিষ্যতে এটি ব্যক্তিগত বা বিশেষ ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিরোধী রাজনীতিক ও নৈতিকতা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিমানটিকে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা মান অনুযায়ী উন্নীত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, নিরাপদ কমান্ড সুবিধা এবং বিশেষ নিরাপত্তা অবকাঠামো সংযোজন করেছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংস্কার ব্যয় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ট্রাম্পের সমালোচকরা দাবি করছেন, তাঁর প্রেসিডেন্সির সময় নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে তাঁর প্রথম সরকারি সফর সম্পন্ন করেছেন। ফলে এই বিমান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নতুন আকাশযান হিসেবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতি, নৈতিকতা, স্বার্থের সংঘাত এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতার প্রশ্নে একটি বহুল আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
