গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনে প্রায় ৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে ফিলিস্তিনিদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে বলে এক নতুন আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং সাম্প্রতিক বিধ্বংসী সামরিক অভিযানের ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সফল করা সম্ভব নয়। এতে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের সংঘাতের পাশাপাশি সর্বশেষ যুদ্ধ গাজাকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক ও উন্নয়ন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, যার ফলে অঞ্চলটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনটি জোর দিয়ে বলেছে, পুনর্গঠন কার্যক্রম কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন পুনর্নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং জরুরি জনসেবা পুনরুদ্ধার, স্থানীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং তদারকির প্রতিটি ধাপে ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় জনগণকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখলে পুনর্গঠন উদ্যোগের বৈধতা, কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, গাজার পুনর্গঠনে দাতা দেশসমূহ, বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য। পাশাপাশি নিরাপদ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর নিশ্চয়তা, স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ৭১ বিলিয়ন ডলারের এই ব্যয়ের হিসাব শুধু অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিফলন নয়; বরং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে গাজার পুনর্গঠন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে পরিণত হতে পারে।
প্রতিবেদনের উপসংহারে সতর্ক করে বলা হয়েছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, অর্থবহ রাজনৈতিক অগ্রগতি এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষার কার্যকর নিশ্চয়তা ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিপুল আর্থিক সহায়তাও গাজার টেকসই পুনর্গঠন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে লাখো ফিলিস্তিনি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা, মানবিক সংকট এবং অনিশ্চয়তার ঝুঁকির মধ্যেই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গাজা পুনর্গঠনে বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান, ৭১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় ও ফিলিস্তিনিদের কেন্দ্রীয় ভূমিকার ওপর জোর
