সৌদি আরবের তায়েফ, খামিস মুশাইত ও আবহা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠী। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর চালানো এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফকে লক্ষ্য করে হুতিদের পক্ষ থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজন মাঝারি মাত্রার আঘাত পেয়েছেন, তবে তাদের কারও আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। আল-মালিকির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ করেন এবং বলেন, সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী এ ধরনের হামলা প্রতিহত করতে জোট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, এর আগে ইয়েমেনের পাঁচটি প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমান ২৪ ঘণ্টায় ৫৪টি হামলা চালিয়েছে এবং এসব অভিযানে এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি এসব হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। একই দিনে হুতিরা সৌদি আরবের খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করে এবং সৌদি ভূখণ্ডে তাদের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার হুমকি দেয়। তবে এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে কম উত্তেজনার পর গত জুলাইয়ের শুরু থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী ও হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। এর ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের পাশাপাশি সৌদি আরবের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করার পর ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হয়। পরের বছর ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আঞ্চলিক মাত্রা পায়। পরবর্তী সময়ে ইয়েমেনের যুদ্ধ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই পুরোনো সংঘাত আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে তায়েফ, আবহা ও খামিস মুশাইতের মতো সৌদি শহরকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। একদিকে হুতিরা ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযানের জবাব দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের ভূখণ্ডে হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত আবারও সীমান্ত পেরিয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
