গাজা যুদ্ধ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সংকট নিয়ে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে সরাসরি মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করেন এবং গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি গাজায় কাতারের আর্থিক সহায়তা, হামাসের সঙ্গে মধ্যস্থতা, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা, জিম্মি মুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কাতারের কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ওই সাক্ষাৎকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পিয়ার্স মরগান যখন সরাসরি জানতে চান, তিনি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী মনে করেন কি না, তখন আল থানি দ্বিধা না করে ইতিবাচক উত্তর দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গাজায় যা ঘটেছে তা যুদ্ধাপরাধ এবং এর জন্য যারা দায়ী, তাদের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া উচিত। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর নেতানিয়াহু ও তৎকালীন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। আদালত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। আদালতের নথিতে অভিযোগগুলোর মধ্যে যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে অনাহার ব্যবহার এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ইচ্ছাকৃত হামলার অভিযোগ রয়েছে। এগুলো আদালতের চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত করার রায় নয়, বরং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে করা অভিযোগ ও বিচারিক পর্যায়ের সিদ্ধান্ত।
আল থানির বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল কাতারের মধ্যস্থতার ভূমিকা। কাতার ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের সঙ্গেও কাতার বিভিন্ন পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি, জিম্মি মুক্তি এবং মানবিক সহায়তা নিয়ে আলোচনায় যুক্ত ছিল। আল থানি বলেন, গত দুই বছরে যুদ্ধ বন্ধের জন্য কাতার যখনই কোনো উদ্যোগ নিয়েছে, তখনই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক কারণে সেই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর রাজনৈতিক মিত্রদের নীতির সমালোচনা বিশেষভাবে উঠে আসে।
সাক্ষাৎকারে গাজার জন্য কাতারের আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কাতারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে যে দেশটির দেওয়া অর্থ হামাসের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়েছে। আল থানি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গাজায় কাতারের অর্থায়নের উদ্দেশ্য ছিল বেসামরিক মানুষের জীবনযাত্রা ও অবকাঠামো টিকিয়ে রাখা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের যুদ্ধের পর পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাসপাতাল, স্কুল ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে গাজায় প্রতি মাসে ৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা ব্যবস্থা চালু হয়েছিল বলেও আল থানি উল্লেখ করেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এর একটি অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি কেনায় ব্যবহৃত হতো, একটি অংশ দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য দেওয়া হতো এবং আরেকটি অংশ গাজার বেসামরিক কর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যবহৃত হতো। তাঁর দাবি, অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বিত ছিল এবং উপকারভোগীদের তালিকাও যাচাই করা হতো।
এই বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে, কারণ কাতারের অর্থায়ন নিয়ে ইসরায়েলি রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ইসরায়েলি সমালোচকেরা যুক্তি দিয়ে থাকেন যে গাজায় অর্থ প্রবাহ হামাসের শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে কাতারের অবস্থান হলো, গাজার বেসামরিক জনগণের প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা দেওয়া এবং হামাসের সামরিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা এক বিষয় নয়। এই দুই অবস্থানের মধ্যে পার্থক্যটি গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
আল থানি আরও বলেন, কাতারের সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামোর সমন্বয় ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গাজায় অর্থ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও যাচাই প্রক্রিয়া ছিল। এই দাবিগুলোর প্রতিটি দিকের স্বাধীন যাচাই ছাড়া এগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। তবে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে কাতার এখন গাজায় দেওয়া অর্থ নিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ্যে তুলে ধরতে চাইছে।
সাক্ষাৎকারে যুদ্ধের রাজনৈতিক পটভূমিও উঠে আসে। আল থানি বলেন, গাজা সংকটকে শুধু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা থেকে শুরু করলে সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাসের একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। তাঁর বক্তব্যে ২০১৪ সালের যুদ্ধ, দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ, গাজার অর্থনৈতিক সংকট এবং বহু বছর ধরে চলা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের প্রসঙ্গ উঠে আসে। তাঁর মতে, স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া বারবার সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারবে না।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সরকার গাজায় সামরিক অভিযানকে ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর হামলার পর নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে এসেছে। ইসরায়েলি অবস্থান অনুযায়ী, হামাসের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করাই ছিল অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। সাম্প্রতিক সময়েও নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক সমালোচনার জবাবে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণেও তিনি গাজা নিয়ে গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের বিতর্কে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ভূমিকা এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ICC-এর নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আদালত নেতানিয়াহু ও ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালত বলেছিল, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে পর্যন্ত সময়ের কথিত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি রয়েছে। আদালত বিশেষভাবে খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরবরাহের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল।
এই আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি হামাসের বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ICC একই দিনে হামাসের সামরিক শাখার তৎকালীন কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার আলোচনায় গাজার সংঘাতকে কেবল একটি পক্ষের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে না।
পিয়ার্স মরগানের সাক্ষাৎকারে কাতারের মধ্যস্থতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য আসে। আল থানি বলেন, গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগই সাধারণত সবচেয়ে কার্যকর এবং প্রকাশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য অনেক সময় আলোচনাকে কঠিন করে তোলে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্য বক্তব্য যখন আলোচনার টেবিলের অবস্থানকে কঠোর করে দেয়, তখন মধ্যস্থতাকারীদের জন্য সমঝোতার জায়গা তৈরি করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
ইরান নিয়েও সাক্ষাৎকারে আলোচনা হয়। আল থানি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে বিদেশি সরকারগুলোর সরাসরি যোগাযোগ নেই এবং কাতার ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ব্যক্তিগতভাবে পর্যালোচনা করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে কাতারের এই যোগাযোগব্যবস্থা দেশটির মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার আরেকটি দিক তুলে ধরে।
কাতারের ওপর আঞ্চলিক সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা LNG রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আল থানি জানান। তিনি অর্থনৈতিক ক্ষতি, পর্যটন কমে যাওয়া এবং হোটেল খাতে চাপের কথাও উল্লেখ করেন। রয়টার্সও সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার কারণে কাতারের LNG রপ্তানিতে বড় ধরনের বাধার কথা উল্লেখ করেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
সাক্ষাৎকারের আরেকটি সংবেদনশীল বিষয় ছিল দোহায় ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ। আল থানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলার সময় কাতারে হামলা মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের জন্য নজিরবিহীন ঘটনা। এই বক্তব্য কাতারের নিরাপত্তা ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তার অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে যে গাজা যুদ্ধ এখন আর শুধু গাজা ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো সংঘাত নয়; এর প্রভাব কাতার, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির ওপরও পড়ছে।
জিম্মিদের বিষয়েও আল থানি একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামাস যুদ্ধের প্রথম দিনেই বেসামরিক জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল। কাতার নাকি পরে হামাসের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সামনে আনে। আল থানি দাবি করেন, ইসরায়েল সেই প্রস্তাব বিবেচনা করতেও আগ্রহী ছিল না। তবে এই দাবির বিষয়ে পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ ছাড়া এটিকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বিভিন্ন সময়ে হামাস, ইসরায়েল, কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
সাক্ষাৎকারটির রাজনৈতিক গুরুত্ব এখানেই যে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী এমন একটি সময়ে প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন, যখন কাতার নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। কূটনীতির ক্ষেত্রে একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী ও কোনো পক্ষের নীতির কঠোর সমালোচক হওয়া একটি জটিল অবস্থান তৈরি করে। কাতারের জন্যও এখন প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যৎ আলোচনায় তার মধ্যস্থতার গ্রহণযোগ্যতা কীভাবে বজায় থাকবে এবং একই সঙ্গে গাজা নিয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান কতটা প্রকাশ্য থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতারের ভূমিকা তাই শুধু একটি ছোট উপসাগরীয় রাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এবং একই সঙ্গে হামাসের সঙ্গে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল হিসেবে পরিচিত। এই তিনটি সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করাই কাতারের কূটনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
পিয়ার্স মরগানের অনুষ্ঠানে আল থানির বক্তব্য সেই জটিল বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের কথা বলেছেন, অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য কাতারের মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে কাতারের অবস্থান ছিল, গাজা সংকটের সামরিক সমাধানের বদলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্য, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা দেখাচ্ছে যে সংঘাতটির আইনি ও রাজনৈতিক মাত্রা একসঙ্গে এগোচ্ছে। নেতানিয়াহু ও ইসরায়েল ICC-এর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এসেছে, অন্যদিকে আদালত তার সিদ্ধান্তে কথিত অপরাধের বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত ভিত্তির কথা জানিয়েছে। ফলে কোনো পক্ষের রাজনৈতিক বক্তব্যকে আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না।
কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার সেই বিতর্কে নতুন একটি রাজনৈতিক বক্তব্য যোগ করেছে। যুদ্ধের দুই বছর পর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা, গাজায় অর্থ সহায়তা, জিম্মি মুক্তির আলোচনা এবং ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য আন্তর্জাতিক আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত গাজা সংকটের স্থায়ী সমাধান নির্ভর করবে যুদ্ধবিরতি, জিম্মি মুক্তি, মানবিক সহায়তা, গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কতটা সমঝোতা তৈরি হয় তার ওপর। কাতারের বক্তব্য সেই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তবে সংঘাতের পূর্ণ চিত্র বুঝতে ইসরায়েল, ফিলিস্তিনি পক্ষ, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আদালতের নথিও একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
