ইসলামি আকীদা অনুযায়ী কিয়ামতের পূর্বলক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো হযরত ঈসা (আ.)-এর পৃথিবীতে পুনরাগমন; সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি শাম তথা বর্তমান সিরিয়ার দামেস্ক নগরীর একটি ঐতিহাসিক মসজিদে অবতরণ করবেন, যা হলো উইমাইয়া মসজিদ; প্রিয় নবী হয়রত মুহাম্মদ (ﷺ) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, “ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) সাদা বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় দামেস্কের পূর্ব পাশে সাদা মিনারের কাছে অবতরণ করবেন”—(সহীহ মুসলিম); আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন যে এখানে ‘সাদা মিনার’ বলতে উমাইয়া মসজিদের পূর্ব মিনারকে বোঝানো হয়েছে; অবতরণের পর তিনি দাজ্জালকে পরাজিত করবেন, পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন, জুলুম-অত্যাচার দূর করবেন এবং ইসলামকে পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত করবেন; তিনি ন্যায়ের শাসন কায়েম করবেন, ভ্রান্ত বিশ্বাস দূর করবেন এবং মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করবেন; এই ঘটনাটি কেবল একটি ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং মুসলমানদের ঈমান, আকীদা ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসকে দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ; এর মাধ্যমে নবীদের সত্যতা, আল্লাহর ওয়াদা ও পরিকল্পনার বাস্তবতা স্পষ্ট হয় এবং মানবজাতিকে সতর্ক করা হয় যে পৃথিবীর জীবন সাময়িক, পরকালের প্রস্তুতিই চূড়ান্ত সফলতা; তাই একজন মুমিনের জন্য শিক্ষা হলো—আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা, রাসূলগণের শিক্ষা অনুসরণ করা, সুন্নাহর পথে চলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা; আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের অন্তরে সত্যিকারের ঈমান দান করেন, নবী ও রাসূলদের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করেন এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর আগমনের পূর্বে নিজেদের আমল সংশোধনের তাওফিক দান করেন—আমিন।
