ভেনু জুলিয়ায় জ্বালানি খাতকে সম্প্রসারণে সহায়তা করছে। হাউস্টভেইট জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ১ লাখের বেশি ব্যারেল ন্যাফথা ভেনেজুয়েলায় পাঠাচ্ছে, যা ভারী অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সহজ করা হচ্ছে। তিনি এই ব্যবস্থাকে ‘একটি সুন্দর জ্বালানি অংশীদারত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এতে উভয় পক্ষই বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর ভাইস প্রেসিডেন্ট জোভান্নি মার্টিনেজ জানিয়েছেন, আগস্টের শেষ নাগাদ দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদন প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৪৫ হাজার ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। চলতি বছরে দেশটির তেল রপ্তানি ইতোমধ্যে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে জ্বালানি উৎপাদন ১২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও ভেনেজুয়েলার শোধনাগারগুলোর আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ক্রমবর্ধমান এই জ্বালানি সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবের প্রশ্নও। মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার প্রশাসন পরিচালনা করবে এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদ কাজে লাগাবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরে কংগ্রেসকে জানান, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ এমন একটি হিসাবে জমা হবে, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তদারকি থাকবে। কারাকাসকে ওই অর্থ ব্যবহারের জন্য মাসিক বাজেটের আবেদন করতে হবে এবং কোন খাতে অর্থ ব্যয় করা যাবে না, তা ওয়াশিংটন নির্ধারণ করবে। জুলাইয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রকৃত অঙ্ক আরও বেশি। বিপুল এই অর্থ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। এপ্রিল মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস সতর্ক করেছে, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, স্পষ্ট জবাবদিহি ব্যবস্থা ও বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক রোডম্যাপ ছাড়া ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলায় একটি দুর্নীতিগ্রস্ত উত্তরসূরি সরকারকে আরও শক্তিশালী করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছে। ফলে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রপ্তানি কেবল বাণিজ্যিক প্রবাহের পরিবর্তন নয়; এটি দেশটির অর্থনীতি, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলসম্পদের ওপর ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন
