যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ১৬ আগস্ট শেষ হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে তেহরান ও ওয়াশিংটন কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে দুই দেশের মধ্যে আরেক দফা বড় সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে, যার প্রভাব শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তেহরান ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম সতর্ক করে বলেছেন, সমঝোতা স্মারক ভেস্তে গেলে নতুন যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতার শর্তগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইরান তৃতীয় দফার সংঘাতের মুখোমুখি হতে পারে, যা পূর্ববর্তী সংঘর্ষগুলোর তুলনায় আরও বিস্তৃত, তীব্র এবং বিধ্বংসী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে ১৩ দিনের যুদ্ধ এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া টানা ৪০ দিনের সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তারা মনে করছেন, নতুন কোনো সামরিক সংঘর্ষ শুরু হলে তা কেবল আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যই বদলে দেবে না, বরং বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য, জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক শিপিং রুট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে পুনরায় জানানো হয়েছে যে, ইরান সংঘাত নয়, বরং কূটনৈতিক সমাধান এবং একটি টেকসই, পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক চুক্তির পক্ষেই অবস্থান করছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, উত্তেজনা কমানো, আস্থা পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানোর জন্য তারা সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দৃষ্টি ১৬ আগস্টের দিকে, কারণ এই সময়সীমার মধ্যেই আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং সেটিই ঠিক করে দিতে পারে মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে শান্তির পথে এগোবে, নাকি আরও একটি অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক সংঘাতের দিকে ধাবিত হবে।
