ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণার দাবি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনার পর হুথিদের এ ঘোষণা আসে। টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বলেন, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে এবং এই ঘোষণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হবে। তিনি দাবি করেন, এটি সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে নেওয়া পদক্ষেপ। তবে অবরোধ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, কোন কোন সমুদ্রপথ বা জাহাজ এর আওতায় পড়বে এবং এর কার্যকর পরিধি কতটা হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সৌদি আরবও তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘোষণার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি হুথিরা বাস্তবে লোহিত সাগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক বা জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বীমা ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত লোহিত সাগরে গত কয়েক মাস ধরেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির, যেখানে হুথিদের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীগুলো টহল জোরদার করেছে। সর্বশেষ এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বহুমুখী সংঘাত, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রক্সি যুদ্ধের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে শুধু ইয়েমেন ও সৌদি আরব নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক নৌ-নিরাপত্তাও নতুন করে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
