ইরান-এর একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ডন, আর দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-ও এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; আইআরএনএ জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার থেকে আঞ্চলিক সফর শুরু করছেন, যেখানে পাকিস্তানের পাশাপাশি ওমান ও রাশিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এবং এই সফরের লক্ষ্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর তথাকথিত চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ প্রসঙ্গে মতবিনিময় করা; ডনের তথ্য অনুযায়ী আরাগচির নেতৃত্বে একটি ছোট প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদ পৌঁছাবে, একই সময়ে মার্কিন লজিস্টিক ও নিরাপত্তা টিমও সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছে, তবে এএফপি জানিয়েছে, পাকিস্তান সফরে আরাগচি বা তাঁর প্রতিনিধিরা কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়, এমনকি জেডি ভ্যান্স বা অন্য কোনো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি; এদিকে সফরকে ঘিরে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য বৈঠকের স্থানগুলোর আশপাশের সড়ক আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে; ডন আরও জানায়, এই সফরের আগে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ফোনে আরাগচির সঙ্গে কথা বলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়; এএফপি সূত্রে জানা গেছে, ইসহাক দারের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির-এর সঙ্গেও আরাগচির যোগাযোগ হয়েছে; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আঞ্চলিক পরিস্থিতির সাম্প্রতিক অগ্রগতি, যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা এবং মার্কিন-ইরান সম্পৃক্ততা ঘিরে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে, যেখানে ইসহাক দার টেকসই সংলাপ ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, অন্যদিকে আরাগচি এ বিষয়ে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার ব্যাপারে একমত হন।
