চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্মরণীয় জয় তুলে নেওয়ার পর আনন্দে ফেটে পড়েছে গোটা মেক্সিকো। স্বাগতিক সমর্থকদের গর্জনে মুখরিত অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক উদ্যাপন। রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক জোকালো স্কয়ার থেকে শুরু করে গুয়াদালাহারা, মনতেরে এবং বিভিন্ন শহর ও ছোট ছোট জনপদে হাজারো মানুষ জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে আসে। আতশবাজির ঝলক, গাড়ির হর্ন, ঢাক-ঢোলের তালে তালে বিজয়ের গান এবং সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত স্লোগানে রাতভর উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সবুজ জার্সি ও জাতীয় পতাকায় মোড়ানো সমর্থকেরা দলটির জনপ্রিয় স্লোগান ‘ওয়াই সি সি?’ ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত করে তোলে। বিভিন্ন স্থানে মারিয়াচি শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী সংগীত পরিবেশন করেন, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের আলিঙ্গন, নাচ-গান এবং আনন্দ-উল্লাসে বিজয়ের মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখেন। কোথাও কোথাও সমর্থকেরা স্মৃতিস্তম্ভ ও ল্যাম্পপোস্টে উঠে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করেন। দেশজুড়ে বার, ফ্যান জোন এবং বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করা দর্শকদের মধ্যেও একই রকম উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রবীণ সমর্থকেরা ১৯৮৬ সালের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার অনুভূতির কথা জানান, আর তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এটিকে জীবনের প্রথম এমন ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করার পর মেক্সিকোর সমর্থকদের বিশ্বাস, স্বাগতিক হিসেবে এবার দলটি আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে নতুন ইতিহাস গড়তে সক্ষম হবে।
