যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসানে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য বর্তমান সময়কে উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তাঁর বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি, পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নতুন করে সামনে এসেছে।
পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল সম্পর্কের দিকে এগোতে চায়, তবে যেকোনো সমঝোতার ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে দীর্ঘস্থায়ী ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ অবস্থায় আটকে না রেখে একটি রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়াই তেহরানের স্বার্থে।
ইরানি প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা। জুনে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হলেও পারমাণবিক পরিদর্শন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য রয়ে গিয়েছিল।
এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার খবর এসেছে। একই সময়ে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত করছে।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তেহরান আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে না। বরং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, যুদ্ধের ঝুঁকি কমানো এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রশমনের মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ খুঁজছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, পরমাণু পরিদর্শন এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় থাকায় চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো এখনও জটিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সমঝোতা হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না; মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যকে এখনই পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বরং এটি কূটনৈতিক আলোচনার জন্য তেহরানের রাজনৈতিক প্রস্তুতি এবং আলোচনার প্রতি আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সামনে মূল প্রশ্ন হবে—ওয়াশিংটন ও তেহরান কতটা পারস্পরিক ছাড় দিতে প্রস্তুত এবং সেই সমঝোতা বাস্তবে কতটা টেকসই হয়।
