জেফ্রি এপস্টাইনের মৃত্যুর সাত বছর পরও তার বিপুল সম্পত্তি নিয়ে আইনি জটিলতার অবসান হয়নি। বরং নতুন মামলা, ক্ষতিপূরণের দাবি, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ব্যয় এবং অবশিষ্ট বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তার সম্পত্তির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আরও কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে এপস্টাইনের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ছিল ৬৫৫ দশমিক ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে সেই সম্পদের মূল্য কমে প্রায় ১০৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে তার যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি সম্পত্তির বিরুদ্ধে নতুন নতুন দাবি ও মামলা চলতে থাকায় ভবিষ্যতে আরও অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
এপস্টাইনের সম্পত্তির বর্তমান ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তার দীর্ঘদিনের আইনজীবী ড্যারেন ইন্ডাইকে এবং হিসাবরক্ষক রিচার্ড কান। তারা দুজন তার সম্পত্তির সহ-নির্বাহক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে এপস্টাইনের মৃত্যুর আগে তৈরি করা উত্তরাধিকার নথিতে তাদের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ রয়েছে। ওই নথি অনুযায়ী, ইন্ডাইকের জন্য ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কানের জন্য ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এপস্টাইনের তৎকালীন বান্ধবী কারিনা শুলিয়াকের জন্যও ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাখার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অর্থ শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পাবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ এপস্টাইনের সম্পত্তির বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন দাবি, ক্ষতিপূরণ, কর, আইনি ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক দায়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উত্তরাধিকারীদের হাতে অর্থ যাওয়ার সুযোগ সীমিত।
এপস্টাইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন ও যৌন পাচারের অভিযোগ ছিল। তার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির বিরুদ্ধে অনেক নারী ক্ষতিপূরণের দাবি করেন। তাদের মধ্যে অনেকে আদালতের বাইরে ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করলেও অন্যরা মামলা চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেন। বর্তমানে যারা নতুন করে মামলা করছেন, তাদের কয়েকজন ইন্ডাইকে ও কানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, এপস্টাইনের দীর্ঘদিনের আইনজীবী ও হিসাবরক্ষক হিসেবে এই দুই ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রয়োজনীয় আইনি ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন এবং তার যৌন পাচার কার্যক্রম সম্পর্কে তারা জানতেন বা তাতে সহযোগিতা করেছিলেন।
তবে ইন্ডাইকে ও কান এসব অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। তাদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাদের মক্কেলরা এপস্টাইনের অপরাধ সম্পর্কে জানতেন না এবং তার যৌন অপরাধে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। তারা আরও বলেছেন, কোনো নারী কখনো তাদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করা বা প্রত্যক্ষ করার অভিযোগ আনেননি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পত্তির বিরুদ্ধে থাকা সব দাবি নিষ্পত্তি এবং সম্পত্তির আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগে ইন্ডাইকে ও কান কোনো উত্তরাধিকার অর্থ পাননি। ভবিষ্যতে তারা কোনো অর্থ পেলে সেটিও সব দাবি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির পরেই পাওয়ার কথা।
এপস্টাইনের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় ইন্ডাইকে ও কানের ভূমিকা নিয়ে ভুক্তভোগীদের আইনজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ তারা একই সময়ে সম্পত্তির সহ-নির্বাহক, সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী এবং কিছু মামলায় নিজেদের ভূমিকা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত। ভুক্তভোগীদের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছেন, এই একাধিক ভূমিকার কারণে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। তাদের বক্তব্য ছিল, সম্পত্তির নির্বাহক হিসেবে তাদের দায়িত্ব হলো সম্পত্তির স্বার্থ রক্ষা করা এবং সব দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করা। কিন্তু একই সঙ্গে তারা যদি সম্পত্তি থেকে অর্থ পাওয়ার সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হন, তাহলে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। তবে আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
এদিকে এপস্টাইনের সম্পত্তি থেকে ইতোমধ্যে তার ভুক্তভোগীদের জন্য বিপুল অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। সিএনএর হিসাব অনুযায়ী, তার মৃত্যুর পর থেকে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ভুক্তভোগীদের দেওয়া হয়েছে। এর একটি বড় অংশ দেওয়া হয়েছে আদালত অনুমোদিত ক্ষতিপূরণ কর্মসূচির মাধ্যমে। এপস্টাইনের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল, যাতে দীর্ঘ আদালতি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে ভুক্তভোগীরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পান।
এই ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কেনেথ ফেইনবার্গ ও ক্যামিলি বিরোস, যারা এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় দুর্ঘটনা ও নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ কর্মসূচির সঙ্গে কাজ করেছেন। এপস্টাইনের ক্ষতিপূরণ কর্মসূচিতে নির্যাতনের ধরন, ভুক্তভোগীর বয়স, নির্যাতনের মাত্রা ও পুনরাবৃত্তি, ঘটনার প্রভাব, প্রমাণ এবং দাবির বিশ্বাসযোগ্যতার মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট গাণিতিক সূত্র ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিটি দাবি আলাদাভাবে বিবেচনা করে অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
২০২১ সালে কর্মসূচির প্রশাসক ঘোষণা করেন, প্রায় ১৫০ জন যোগ্য দাবিদারকে মোট প্রায় ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি ব্যক্তি ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। তবে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক ছিল না। কোনো ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে একই দাবিতে সম্পত্তির বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে সম্মত হতে হতো। অন্যদিকে কেউ যদি ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব গ্রহণ না করতেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে পৃথকভাবে দাবি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকত। ফলে কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও এপস্টাইনের সম্পত্তির বিরুদ্ধে নতুন মামলা ও আর্থিক দাবি ওঠার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এপস্টাইনের মৃত্যুর পর তার সম্পদের বড় অংশ বিভিন্ন সম্পত্তি ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করে নগদে পরিণত করা হয়েছে। তার মালিকানাধীন সম্পত্তির মধ্যে নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, নিউ মেক্সিকো, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি দ্বীপের সম্পত্তি ছিল। এসব জায়গার কিছু সম্পত্তি নিয়ে ভুক্তভোগীরা অতীতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এসব সম্পত্তির অধিকাংশই বিক্রি করা হয়। বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের বড় অংশ বিভিন্ন ক্ষতিপূরণ, সমঝোতা, কর এবং অন্যান্য দায় মেটাতে ব্যবহার করা হয়েছে।
এপস্টাইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যেও একটি ২০২০ সালে প্রায় ১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রি করা হয়। তার গাড়ি ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদও ধীরে ধীরে বিক্রি করা হয়েছে। মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির প্রাথমিক হিসাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্য উঠে আসে। মৃত্যুর পরপরই একটি আদালতি নথিতে তার সম্পদের মূল্য প্রায় ৫৭৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়েছিল। পরে একই বছরের শেষ দিকে সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৬৩৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায় এবং সংশোধিত হিসাবে ২০১৯ সালের শেষে সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৫৫ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার ধরা হয়।
সম্পত্তি বিক্রি ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি এপস্টাইনের সম্পত্তিকে বিপুল করও পরিশোধ করতে হয়েছে। ২০২০ সালের জুলাইয়ে তার সম্পত্তি থেকে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি কর হিসেবে পরিশোধ করা হয়। পরে কর কর্তৃপক্ষের হিসাব সংশোধনের ফলে ২০২৪ সালে প্রায় ১১২ মিলিয়ন ডলার ফেরত পাওয়ার কথা জানা যায়। তবে ফেরত পাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ একটি ঋণ পরিশোধে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এপস্টাইনের সম্পত্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গেও বড় ধরনের আর্থিক সমঝোতা করতে হয়েছে। এপস্টাইনের যৌন পাচার কার্যক্রমের সঙ্গে ওই অঞ্চলে থাকা তার সম্পত্তির সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছিল। ২০২২ সালে করা সমঝোতা অনুযায়ী, এপস্টাইনের সম্পত্তি থেকে ১০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নগদ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমস বিক্রির অর্থের অর্ধেক দেওয়ার কথাও ছিল। এছাড়া কর-সংক্রান্ত সুবিধার একটি অংশ ফেরত দেওয়া এবং আরেকটি দ্বীপে পরিবেশগত ক্ষতির জন্য অর্থ পরিশোধের বিষয়ও সমঝোতার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এদিকে এপস্টাইনের সম্পত্তির বর্তমান আর্থিক অবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার অবশিষ্ট বিনিয়োগ। সম্পত্তির সব অর্থ শেষ হয়ে যায়নি। কিছু বিনিয়োগ এখনো বিক্রি বা মেয়াদপূর্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে এপস্টাইন দুটি বিনিয়োগ তহবিলে প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। এসব তহবিল পরিচালনার সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ভ্যালার ভেঞ্চার্স যুক্ত ছিল। এপস্টাইনের সম্পত্তির পক্ষ থেকে দেওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, ওই বিনিয়োগগুলোর বর্তমান মূল্য প্রায় ১৭২ মিলিয়ন ডলার হতে পারে। তবে বিনিয়োগগুলো থেকে শেষ পর্যন্ত কত অর্থ পাওয়া যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আরও একটি বিনিয়োগ তহবিল বিক্রি বা নগদে পরিণত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যার মূল্য ১০ মিলিয়ন ডলারের কম বলে জানানো হয়েছে।
এই বিনিয়োগগুলো এপস্টাইনের সম্পত্তির ভবিষ্যৎ হিসাবকে জটিল করে তুলেছে। একদিকে ক্ষতিপূরণ, মামলা, কর এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের কারণে সম্পত্তির অর্থ ক্রমাগত কমছে। অন্যদিকে অবশিষ্ট বিনিয়োগগুলো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্থ এনে দিতে পারে। ফলে বর্তমানে সম্পত্তির যে মূল্য দেখা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে তা আরও কমতে বা কিছুটা বাড়তে পারে। বিনিয়োগগুলো চূড়ান্তভাবে বিক্রি বা মেয়াদপূর্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন।
এপস্টাইনের সম্পত্তির পরিচালন ব্যয়ও কম নয়। তার সম্পত্তির সহ-নির্বাহক রিচার্ড কানের বক্তব্য অনুযায়ী, আইনি ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ বছরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলতে থাকায় এই ব্যয় ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে সম্পত্তি ইন্ডাইকে ও কানের সহ-নির্বাহক হিসেবে তাদের আইনি প্রতিরক্ষার ব্যয়ও বহন করছে। ফলে সম্পত্তির ওপর চলমান আইনি দায় যত দীর্ঘ হবে, মোট ব্যয়ের পরিমাণও তত বাড়তে পারে।
এপস্টাইনের মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে তার আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নতুন উত্তরাধিকার নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই নথির মাধ্যমে তার সম্পদ একটি বিশেষ ট্রাস্টের অধীনে রাখা হয়। ট্রাস্টটির নাম দেওয়া হয় ১৯৫৩ ট্রাস্ট, যা এপস্টাইনের জন্মসালের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ব্যবস্থা তার মৃত্যুর পর সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারীদের তথ্য গোপন রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে এই নথি প্রকাশ্যে আসায় সেখানে উল্লেখ করা বিভিন্ন উত্তরাধিকারীর নাম ও অর্থের পরিমাণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তবে ট্রাস্টে কার জন্য কত অর্থ রাখা হয়েছে, সেটিই এখন চূড়ান্ত বিষয় নয়। প্রথমে এপস্টাইনের সম্পত্তির বিরুদ্ধে থাকা সব দাবি নিষ্পত্তি করতে হবে। ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ, চলমান মামলা, কর, সম্পত্তি পরিচালনার ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক দায় পরিশোধের পর যে অর্থ অবশিষ্ট থাকবে, সেখান থেকেই উত্তরাধিকারীদের অর্থ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচিত হবে। ফলে ট্রাস্টে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ থাকার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিশ্চিতভাবে সেই অর্থ হাতে পাবেন।
সিএনএর প্রতিবেদনে ইন্ডাইকে ও কানের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সম্পত্তির সম্পূর্ণ আইনি নিষ্পত্তি হতে আরও অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ এপস্টাইনের মৃত্যুর সাত বছর পরও তার সম্পত্তির চূড়ান্ত হিসাব শেষ হওয়ার সময়সীমা নিশ্চিত নয়। নতুন মামলা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষতিপূরণের দাবির কারণে এই সময় আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে জেফ্রি এপস্টাইনের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির যে দীর্ঘ আইনি অধ্যায় শুরু হয়েছিল, তা এখনো শেষ হয়নি। তার বিপুল সম্পদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ, বিভিন্ন সমঝোতা, কর এবং আইনি ব্যয়ে চলে গেছে। একই সঙ্গে কিছু বিনিয়োগ এখনো সম্পত্তির হাতে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন অর্থ এনে দিতে পারে। ফলে বর্তমানে যে পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট রয়েছে, সেটিই চূড়ান্ত পরিমাণ নয়। নতুন মামলা ও ক্ষতিপূরণের দাবি সম্পত্তির অর্থ আরও কমিয়ে দিতে পারে, আবার অবশিষ্ট বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্থ পাওয়া গেলে সম্পদের পরিমাণ কিছুটা বাড়তেও পারে। এপস্টাইনের ট্রাস্টে নাম থাকা উত্তরাধিকারী ও সম্ভাব্য সুবিধাভোগীরা শেষ পর্যন্ত কত অর্থ পাবেন, সেটিও নির্ভর করবে সব দাবি, মামলা, কর এবং অন্যান্য দায় চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার পর কত অর্থ অবশিষ্ট থাকে তার ওপর। তাই এপস্টাইনের মৃত্যুর সাত বছর পরও তার সম্পত্তি নিয়ে আইনি ও আর্থিক অধ্যায় এখনো শেষ হয়নি এবং চূড়ান্ত বণ্টনের জন্য আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
