আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষযাত্রা ঘিরে রাজধানী তেহরান ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমের সাক্ষী হয়েছে। লাখো শোকাহত মানুষের ঢলের মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত ঘটনায় পরিণত হন দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, যাকে যুদ্ধের শুরুতে নিহত বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হলেও কয়েক মাস পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে দেখা গেছে। কালো পোশাকে শোকমিছিলে অংশ নিয়ে তিনি মানুষের ভিড়ের মধ্যে হেঁটে যান, যা দেশজুড়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের প্রথম দিকে তাঁর বাসভবনের নিকটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তিনি নিহত হয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, ফলে তাঁর ভাগ্য নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি সেই গুঞ্জনের অবসান ঘটায়। এদিকে শেষযাত্রায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শোকমিছিলে অংশ নেন এবং বিপুল জনসমাগমের কারণে মোটরসাইকেলে করে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে দেখা যায় তাঁকে। অন্যদিকে ইরানের জীবিত দুই সাবেক রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, তাঁদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। শোকযাত্রার বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার ও প্রতীকী প্রতিবাদও লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাহমুদ আহমাদিনেজাদের আকস্মিক প্রকাশ্য উপস্থিতি শুধু তাঁর মৃত্যুর গুঞ্জনের অবসানই ঘটায়নি, বরং যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।
