চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনীর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা এবং তাইওয়ান প্রণালী ও আশপাশের সমুদ্রাঞ্চলে তাদের উপস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর প্রকাশ্য উদ্বেগ ও সতর্ক অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে তাইওয়ান। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীনের বিভিন্ন সামুদ্রিক অভিযান, টহল কার্যক্রম এবং বিতর্কিত জলসীমায় শক্তি প্রদর্শনের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তাইওয়ানের কর্মকর্তারা বলছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থার প্রতি ক্রমবর্ধমান হুমকি সম্পর্কে বিশ্বের প্রধান গণতান্ত্রিক দেশগুলোর উদ্বেগ প্রকাশ তাইওয়ানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ চীনের সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও সামুদ্রিক উপস্থিতি শুধু তাইওয়ানের জন্য নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তাইওয়ান সরকার বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সমর্থন প্রমাণ করে যে তাইওয়ান প্রণালীর নিরাপত্তা এখন আর কেবল একটি আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এদিকে বেইজিং তার কর্মকাণ্ডকে নিজেদের আঞ্চলিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে বর্ণনা করলেও পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছে, একতরফা শক্তি প্রদর্শন এবং চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিদ্যমান স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ক্রমবর্ধমান এই ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে তাইওয়ান আন্তর্জাতিক সমর্থনকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে এবং শান্তিপূর্ণ, নিয়মভিত্তিক ও স্থিতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গঠনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
