মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে নেওয়া ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের সামরিক উদ্যোগ হঠাৎ স্থগিত করেন, কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ নিজেদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা। তারা জানান, সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা দেওয়ার পর সৌদি আরবের নেতৃত্ব বিস্মিত ও অসন্তুষ্ট হয়। এর জবাবে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়, তারা রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন কিংবা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। পরে ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ফোনালাপ হলেও সংকটের সমাধান হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় ট্রাম্পকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে, কারণ ট্রাম্প এই উদ্যোগ ঘোষণার পর কাতারসহ আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। সৌদি সূত্র জানায়, ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিল সৌদি আরব এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও তারা সমর্থন করছে। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, আঞ্চলিক মিত্রদের আগেই পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগে ঘোষণা দেয়, পরে ওমানসহ মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করে। সপ্তাহান্তে ট্রাম্প এই অভিযান ঘোষণা করেছিলেন যাতে ইরানের সম্ভাব্য অবরোধ ভেঙে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সচল রাখা যায়। তবে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এটি স্থগিত করেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর অংশ হিসেবে মার্কিন পতাকাবাহী দুটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করেছে। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেন, যুদ্ধের অবসানে কোনো শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হতে পারে কি না, তা দেখার জন্য সাময়িকভাবে অভিযান বন্ধ রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং সেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরি বহর, অতিরিক্ত যুদ্ধসরঞ্জাম ও সহায়ক ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত জাহাজগুলোর সুরক্ষায় যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকেও ওই জলপথে চলাচলকারী জাহাজে হুমকি ও হামলার অভিযোগ ওঠে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি প্রস্তাব তারা পর্যালোচনা করছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বুধবার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আলোচনায় সম্মত বিষয়গুলো মেনে নেয় তাহলে যুদ্ধ শেষ হতে পারে। ওভাল অফিসে তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা ব্যর্থ হলে আবার ভয়াবহ বোমা হামলা শুরু হতে পারে। এদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে ইরানের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘বাস্তবে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত কেবল ইচ্ছার তালিকা’ বলে মন্তব্য করে বলেন, আমেরিকা যদি কোনো অপকর্মের চেষ্টা করে তবে ইরান কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত। জর্ডানের এক কর্মকর্তা বলেন, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মধ্যে রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের নেই।
