মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) সামরিক বিমান মোতায়েনের প্রস্তুতির খবর প্রকাশের পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিমান দীর্ঘপাল্লার যুদ্ধবিমানকে মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা দেয়, যা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এ ধরনের মোতায়েনকে প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে আসছে, তবু তেহরান এটিকে সম্ভাব্য সামরিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে যে কোনো ভুল হিসাব বা সীমিত সংঘর্ষ দ্রুত বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করে এবং এর জবাবে ইরান প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য আবারও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার মুখে পড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্কেও গভীর অভিঘাত সৃষ্টি করতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সংকটে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংলাপ ও আঞ্চলিক কূটনীতিই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর পথ। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বৃহৎ পরিসরের সংঘাত শুরু হলে তার মানবিক, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক মূল্য পুরো বিশ্বকেই বহন করতে হতে পারে।
