রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ইউরোপীয় কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি এবং পর্যালোচিত নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাশিয়ার সামরিক সদস্যদের জন্য চীনে পরিচালিত একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রাশিয়ার সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা পর্যায়ের অনুমোদনেই বাস্তবায়িত হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচিতে দুই দেশের একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সম্পৃক্ত ছিলেন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান অবস্থায় এ ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা মস্কো ও বেইজিংয়ের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত বহন করে এবং ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রাপ্ত তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জৈবিক (আরসিবি) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে বিকিরণ শনাক্তকরণ, রাসায়নিক দূষণ মোকাবিলা, জৈবিক ঝুঁকি থেকে সামরিক সদস্যদের সুরক্ষা, সামরিক স্থাপনার বায়ু চলাচল ব্যবস্থা নিরাপদ রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ সাধারণ সামরিক অনুশীলনের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সমন্বয়ের প্রতিফলন হতে পারে।
ইউরোপীয় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাশিয়া তার সামরিক সক্ষমতা আরও আধুনিক ও কার্যকর করার চেষ্টা করছে এবং সে ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও প্রশিক্ষণভিত্তিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সময়ে পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, চীন প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। তবে বেইজিং এ ধরনের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেন সংকট সম্পর্কে তাদের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেই রয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, প্রকাশিত অভিযোগগুলো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং চীন কোনো পক্ষকে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করার মতো পদক্ষেপে সমর্থন দেয় না। অন্যদিকে, প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি অভিযোগগুলোর সত্যতা ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হয়, তবে তা শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা, ইউরোপ–এশিয়া কৌশলগত ভারসাম্য এবং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা নীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে রাশিয়া–চীন সামরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গন এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।
উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনে চীনে রুশ সেনাদের গোপন প্রশিক্ষণ—উঠল নতুন অভিযোগ
